মোদীর বিজ্ঞাপনেই আড়াই হাজার কোটি রুপি হাওয়া! ভারতে তোলপাড়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচার ও বিজ্ঞাপনের পেছনে গত ছয় বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৮৬ কোটি রুপি। তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) আওতায় পাওয়া এক আবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সাকেত গোখলে এই আরটিআই আবেদনটি করেছিলেন। তিনি জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতের সাধারণ করদাতাদের পকেট থেকে গেছে। সংখ্যার হিসাবে এই ব্যয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৫৮৬ কোটি রুপি (৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা প্রায়)। আরও পড়ুন চীনা সরকারি মিডিয়া / তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে ভারতে হইচইয়ের দরকার নেই চলতি বছরের ১ জুন সাকেত গোখলে সরকারের বিজ্ঞাপন ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করেন। ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া ও হোর্ডিংসহ সব মাধ্যমের খরচের হিসাব চাওয়া হয়। গত ১৬ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব কমিউনিকেশন (সিবিসি) এই তথ্য প্রকাশ করে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে শুরু করে বছরভিত্তিক খরচের বিবরণী দেওয়া হয়েছে সেখানে। তবে কোন কোন বিজ্ঞাপন সংস্থাকে

মোদীর বিজ্ঞাপনেই আড়াই হাজার কোটি রুপি হাওয়া! ভারতে তোলপাড়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচার ও বিজ্ঞাপনের পেছনে গত ছয় বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৮৬ কোটি রুপি। তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) আওতায় পাওয়া এক আবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সাকেত গোখলে এই আরটিআই আবেদনটি করেছিলেন। তিনি জানান, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ভারতের সাধারণ করদাতাদের পকেট থেকে গেছে। সংখ্যার হিসাবে এই ব্যয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৫৮৬ কোটি রুপি (৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা প্রায়)।

চলতি বছরের ১ জুন সাকেত গোখলে সরকারের বিজ্ঞাপন ব্যয়ের হিসাব চেয়ে আবেদন করেন। ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট মিডিয়া ও হোর্ডিংসহ সব মাধ্যমের খরচের হিসাব চাওয়া হয়। গত ১৬ জুন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেন্ট্রাল ব্যুরো অব কমিউনিকেশন (সিবিসি) এই তথ্য প্রকাশ করে। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে শুরু করে বছরভিত্তিক খরচের বিবরণী দেওয়া হয়েছে সেখানে। তবে কোন কোন বিজ্ঞাপন সংস্থাকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

সাকেত গোখলে এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, শুধু প্রিন্ট মিডিয়াতেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৩৩৮ কোটি রুপি ব্যয় করা হয়েছে। এর আগের বছর এই খাতে ব্যয় ছিল ৮৩ কোটি ১৬ লাখ রুপি। অর্থাৎ এক বছরেই প্রিন্ট মিডিয়ায় খরচ বেড়েছে চারগুণ।

২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৯৬ কোটি রুপি। একই সময়ে রেডিও এবং টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৩৬ কোটি রুপি।

এছাড়া হোর্ডিং বা আউটডোর বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ হয়েছে ৫৮৩ কোটি ৯৭ লাখ রুপি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আউটডোর বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে কম, মাত্র ৩২ কোটি ৭৬ লাখ রুপি খরচ হয়েছিল। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনের আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২ কোটি ২১ লাখ রুপিতে।

ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো নতুন মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন ব্যয় নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খাতে খরচ ছিল মাত্র ১৪ কোটি রুপি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা প্রায় দশগুণ বেড়ে ১৩১ কোটি ৩৫ লাখ রুপিতে পৌঁছায়।

সিবিসি বাণিজ্যিক গোপনীয়তার অজুহাত দেখিয়ে বিজ্ঞাপন পাওয়া সংস্থাগুলোর নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাকেত গোখলে বলেন, এটি প্রতিটি করদাতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এটি কেবল একটিমাত্র সংস্থার হিসাব। এর বাইরে অন্যান্য মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রোয়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং দলীয় বিজ্ঞাপনের খরচ হিসাব করলে প্রকৃত অংক আরও অনেক বেশি হবে।

সরকারকে আক্রমণ করে তৃণমূলের এই সাংসদ বলেন, সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি রুপি মোদীর জনসংযোগের পেছনে খরচ করা হচ্ছে, অথচ কাকে টাকা দেওয়া হচ্ছে তা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরকারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিজেপি ও মোদীর প্রচারের পুরস্কার যদি ২ হাজার ৫৮৬ কোটি রুপি হয়, তবে দেশের সংবাদমাধ্যম কেন আপস করবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সূত্র: সিয়াসাত ডেইলি
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow