মোহাম্মদ কুদুস: বিশ্বকাপে ঘানার বড় ভরসার নাম
২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পেয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছিল আফ্রিকান দেশ ঘানা। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে ছিল আরও একধাপ এগিয়ে। প্রধম কোনো আফ্রিকান দেশ হিসেবে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। যেখানে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো তাদের। যদি নির্ধারিত সময়ে আসামোয়াহ জিয়ান পেনাল্টিটা মিস না করতেন, তাহলে হয়তো সেমিফাইনালও খেলতে পারতো ঘানাইয়ানরা। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দুর্দান্ত খেলেছিলেন চেলসি তারকা মাইকেল এসিয়েন। বলা যায়, তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর করেই ২০১০ বিশ্বকাপে নাম লিখেছিল ঘানাইয়ানরা। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এসিয়েন ঘোষণা দেন, তিনি ডান হাঁটুর ইনজুরি থেকে সময়মত সুস্থ হতে পারবেন না। ফলে বিশ্বকাপের দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। যে কারণে ২০১০ বিশ্বকাপে দেখা যায়নি এসিয়েনকে। তবে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে ঘানার ফুটবলের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দেশটির কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার। ২০২০ সাল থেকে ডেনমার্কের ক্লাব এফসি নর্ডশেল্যান্ড-এর সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এসিয়েন মনে করেন, মোহাম্মদ কুদুসই এখন ঘানার
২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পেয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছিল আফ্রিকান দেশ ঘানা। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে ছিল আরও একধাপ এগিয়ে। প্রধম কোনো আফ্রিকান দেশ হিসেবে খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনাল। যেখানে উরুগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো তাদের। যদি নির্ধারিত সময়ে আসামোয়াহ জিয়ান পেনাল্টিটা মিস না করতেন, তাহলে হয়তো সেমিফাইনালও খেলতে পারতো ঘানাইয়ানরা।
২০১০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দুর্দান্ত খেলেছিলেন চেলসি তারকা মাইকেল এসিয়েন। বলা যায়, তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের ওপর করেই ২০১০ বিশ্বকাপে নাম লিখেছিল ঘানাইয়ানরা। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এসিয়েন ঘোষণা দেন, তিনি ডান হাঁটুর ইনজুরি থেকে সময়মত সুস্থ হতে পারবেন না। ফলে বিশ্বকাপের দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। যে কারণে ২০১০ বিশ্বকাপে দেখা যায়নি এসিয়েনকে। তবে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগে ঘানার ফুটবলের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দেশটির কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার। ২০২০ সাল থেকে ডেনমার্কের ক্লাব এফসি নর্ডশেল্যান্ড-এর সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এসিয়েন মনে করেন, মোহাম্মদ কুদুসই এখন ঘানার সবচেয়ে বড় তারকা এবং তাকে ঘিরেই গড়ে উঠছে দলটির ভবিষ্যৎ। ২০২৬ বিশ্বকাপে কুদুসই হবেন ঘানার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।
২০১৫ সালে আক্রাভিত্তিক (আক্রা ঘানার রাজধানী) রাইট টু ড্রিম একাডেমি ক্লাব নর্ডশেল্যান্ডকে অধিগ্রহণ করার পর থেকেই ইউরোপে ঘানার তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি শক্তিশালী পথ তৈরি হয়। সেই পথ ধরে উঠে এসেছেন কুদুস ছাড়াও ইব্রাহিম ওসমান, আর্নেস্ট নুয়ামাহ এবং কামালদিন সুলেমানের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এই ফুটবলারদের অনেকেই ঘানার জার্সিতে মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘানার হয়ে ৫৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এবং ২০০৬ ও ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এসিয়েন জানান, ‘আমি ক্লাবটির সাবেক মালিক টম ভার্ননকে চিনতাম। তিনি আমাকে এখানে কাজ করার প্রস্তাব দেন। নর্ডশেল্যান্ড ও ‘রাইট টু ড্রিম’-এর সংযোগটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। এখানে অনেক আফ্রিকান তরুণ আছে, তাই তাদের সঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা দারুণ অনুভূতি। যখন দেখি আমার সঙ্গে কাজ করা কোনো তরুণ তার দেশের হয়ে খেলছে, সেটা সত্যিই আনন্দের।’
কুদুস ও সুলেমানাকে একাডেমির সেরা প্রতিভা হিসেবে উল্লেখ করে এসিয়েন বলেন, ‘কুদুসকে নিয়ে বলতে শুরু করলে শেষ করা যাবে না। সে ইতোমধ্যেই নিজেকে বিশ্ব ফুটবলে প্রমাণ করেছে। ঘানার জন্য সে আমাদের সবচেয়ে বড় তারকা। তাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে, ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস দিতে হবে।’
একই সঙ্গে কামালদিন সুলেমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে অসাধারণ প্রতিভাবান। এখানে তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তার গতি, বল নিয়ে কাটিয়ে যাওয়ার দক্ষতা এবং শারীরিক শক্তি দুর্দান্ত। মাঠে সে যেন নিজের মতো খেলতে পারে, তাহলেই সেরাটা বেরিয়ে আসবে।’
এই ধারাবাহিকতা এখনো থেমে নেই। নর্ডশেল্যান্ডে খেলছেন আরও এক তরুণ ঘানাইয়ান মিডফিল্ডার ক্যালেব ইরেঙ্কি, যিনি মাত্র ২০ বছর বয়সেই জাতীয় দলে ১০টি ম্যাচ খেলেছেন এবং বেশিরভাগ সময় ডান পাশের রক্ষণভাগে খেলেছেন। তাকে নিয়ে এসিয়েন বলেন, ‘ওকে নিয়ে আমি শুধু ভালো কথাই বলতে পারি। সে খুব পরিশ্রমী, শান্ত, ভদ্র এবং মাঠেই নিজের কথা বলে। তার খেলায় মাঝে মাঝে আমার ছোটবেলার ছায়া দেখি। সে নিয়মিত আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসে এবং আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাকে সাহায্য করতে। আশা করি ভবিষ্যতে সে বড় খেলোয়াড় হবে।’
২০২৬ বিশ্বকাপে ঘানা ‘এল’-গ্রুপে খেলবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পানামা, ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া। ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস মিস করার হতাশা কাটিয়ে দলটি নতুন উদ্যমে বিশ্বকাপে নামবে বলে বিশ্বাস এসিয়েনের।
তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই বড় হতাশা ছিল, কিন্তু ফুটবলে আপনাকে সামনে এগোতে হবে। ভালো বিষয় হলো, সবসময় সামনে নতুন ম্যাচ থাকে ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য। বিশ্বকাপের গ্রুপটা কঠিন, তবে সব ম্যাচই কঠিন হয়। আপনাকে জিততে হবে, প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে হবে। এটি একটি প্রতিযোগিতা- এখানে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। শুধু নিশ্চিত করতে হবে আপনি জিতছেন এবং এগিয়ে যাচ্ছেন। দেখি তারা কী করতে পারে।’
সব মিলিয়ে, ঘানার ফুটবলে নতুন প্রজন্মের উত্থান এবং ইউরোপে তাদের বিকাশের পেছনে নর্ডশেল্যান্ড ও রাইট টু ড্রিমের অবদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাঠে সেই প্রতিভার নেতৃত্বে কুদুসের মতো তারকারাই এখন ব্ল্যাক স্টার্সের সবচেয়ে বড় ভরসা। মাইকেল এসিয়েনও মনে করেন, এই তারকাদের হাত ধরে বিশ্বকাপে অনেকদূর যাবে ঘানা।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?