ম্যারাডোনা যেদিন কিংবদন্তী হয়েছিলেন, ঠিক ৪০ বছর পর মেসিও!

লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি আগের মতোই আলো ছড়াচ্ছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনার। একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিলেন মেসি। ২২ জুন দিনটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের জন্য এমনিতেই বিশেষ। ঠিক ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এবং বিতর্কিত ‘হাত দিয়ে’ গোল। চার দশক পর একই দিনে আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি নিজের নাম লিখলেন নতুন এক ইতিহাসে। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। ষষ্ঠ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮

ম্যারাডোনা যেদিন কিংবদন্তী হয়েছিলেন, ঠিক ৪০ বছর পর মেসিও!

লিওনেল মেসি যেন বয়সকে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। ৩৮ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি আগের মতোই আলো ছড়াচ্ছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ডালাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত হয়েছে আর্জেন্টিনার। একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিলেন মেসি।

২২ জুন দিনটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের জন্য এমনিতেই বিশেষ। ঠিক ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এবং বিতর্কিত ‘হাত দিয়ে’ গোল। চার দশক পর একই দিনে আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি নিজের নাম লিখলেন নতুন এক ইতিহাসে।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। ষষ্ঠ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সবচেয়ে হতাশাজনক পেনাল্টি মিসগুলোর একটি। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৩৮ মিনিটে আসে ইতিহাসের সূচনা। আর্জেন্টিনার চমৎকার এক আক্রমণে বাম দিক থেকে ফাকুন্দো মেডিনা ক্রস পাঠান। থিয়াগো আলমাদা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল ছেড়ে দিলে বক্সের সামনে দৌড়ে আসা মেসি প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের কিছুই করার ছিল না।

প্রথমার্ধে সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচের শেষদিকে আসে মেসির দ্বিতীয় গোল।

দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে প্রথমে হুলিয়ান আলভারেজ সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি। পরে বল পায়ে পান মেসি। তার প্রথম শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে আবারও বাঁ পায়ের শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে। সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জয়।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেন মেসি। ফলে তিনি পেছনে ফেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে, যার গোল ছিল ১৬টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে এখন তিনি এককভাবে শীর্ষে।

চলতি বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচেই মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। ৩৮ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বকে আবারও বিস্মিত করছে।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছেন—

১. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ১৮ গোল, ২৮ ম্যাচ
২. মিরোস্লাভ ক্লোসে (জার্মানি): ১৬ গোল, ২৪ ম্যাচ
৩. রোনালদো (ব্রাজিল): ১৫ গোল, ১৯ ম্যাচ
৪. গার্ড মুলার (জার্মানি): ১৪ গোল, ১৩ ম্যাচ
৪. কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স): ১৪ গোল, ১৫ ম্যাচ
৬. জুস্ত ফন্তেইন (ফ্রান্স): ১৩ গোল, ৬ ম্যাচ
৭. পেলে (ব্রাজিল): ১২ গোল, ১৪ ম্যাচ

রেকর্ড গড়ার রাতে ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতিও জানিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘আমি খুব খুশি। সবচেয়ে বেশি খুশি জয়ের জন্য। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কঠিন এবং প্রাপ্য একটি জয়। এই জয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেবে। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গ টেনে মেসি বলেন, ‘আজ আমি একটি পেনাল্টি মিস করেছি, যেটি গোল হলে স্কোরে যোগ হতে পারত। তবে কে জানে, হয়তো ওই পেনাল্টি গোল হলে পরে এই দুই গোল করার সুযোগ পেতাম না। আমি ফলাফল, পারফরম্যান্স এবং দলের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট।’

দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পরের পর্ব নিশ্চিত করাকে পরিকল্পনার অংশ বলেও জানান তিনি। মেসির ভাষায়, ‘দুটি জয়ই আমাদের পরিকল্পনার অংশ ছিল। কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যোগ্যতা অর্জন করা। আমরা আর্জেন্টিনা, তাই যে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামি। সেটা সহজ নয়, মাঠে প্রমাণ করতে হয়, আর আজ আমরা সেটাই করেছি।’

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই দল সবসময় একসঙ্গে থাকতে উপভোগ করে। সমর্থকদের আনন্দ দিতে পারাটা অসাধারণ অনুভূতি। আমরা আগেও তাদের আনন্দ দিয়েছি, সামনে আরও দিতে চাই। পথটা এখনও অনেক দীর্ঘ, কিন্তু আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।’

৩৯তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে বিশ্বকাপের ইতিহাস নতুন করে লিখলেন মেসি। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এখন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। আর মেসি? তিনি যেন এখনও থামার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছেন না।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow