ময়মনসিংহে পাঁচ পরীক্ষার্থীর ৭ শিক্ষক, তবু ফেল সবাই
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল ও মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ছিলেন সাতজন। অন্য প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখায় চার বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকলেও চলতি বছর চারজন শিক্ষার্থী সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই কেউ পাস করেনি। ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচজন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক ছিলেন সাতজন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন সাতজন, তবে গণিতের শিক্ষক প্রবাসে চলে যাওয়ায় ওই পদটি বর্তমানে শূন্য। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত না। অভিভাবক সমাবেশ করেও তাদের
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল ও মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ছিলেন সাতজন। অন্য প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখায় চার বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকলেও চলতি বছর চারজন শিক্ষার্থী সেখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই কেউ পাস করেনি।
ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় পাঁচজন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক ছিলেন সাতজন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন সাতজন, তবে গণিতের শিক্ষক প্রবাসে চলে যাওয়ায় ওই পদটি বর্তমানে শূন্য।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত না। অভিভাবক সমাবেশ করেও তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তিও ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, এ ফলাফলের দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় তাদের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন এমন কয়েকজন শিক্ষকের চাকরির বয়সও এখন প্রায় শেষের দিকে।
ফুলবাড়িয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা বলেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কার্যক্রম নেই। তারা কাগজে শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষা দেওয়ায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকেও চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। তবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখায় ২০২২ সাল থেকেই কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ির যে তিন বিদ্যালয়ে পাস করেনি কেউ
জানা গেছে, এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়। পরে চারজনই অকৃতকার্য হন।
মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা বলেন, মানবিক কারণে আগের অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার যে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করা হয়েছে। তাই এ ঘটনার পুরো দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষের।
তিনি আরও বলেন, নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অন্য একটি অস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো স্পষ্ট অনিয়ম এবং তথ্য গোপনের শামিল। অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে। সঠিক জবাব দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
এদিকে, পাঁচ পরীক্ষার্থীর বিপরীতে সাত শিক্ষক থাকার পরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা এবং দীর্ঘদিন মাধ্যমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/এএসএম
What's Your Reaction?