ময়মনসিংহে সরে দাঁড়ালেন ১৯ জন, ভোটে লড়বেন ৬৭ প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৮৬ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ১৯ প্রার্থী। এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোটের মাঠে লড়াই করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৭ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহরের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরমধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মোট ৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (মুক্তা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। ফলে আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপিদলীয় প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ১০ দলীয় জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. জিল্লুর রহমান, কমিউনিস্ট পাটির আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. আ. রাজ্জাক। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থিতা (বিএনপির বিদ্রোহী) হিসেবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৮৬ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ১৯ প্রার্থী। এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোটের মাঠে লড়াই করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৭ জন প্রার্থী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহরের শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরমধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মোট ৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও শেষ পর্যন্ত জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (মুক্তা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ। ফলে আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপিদলীয় প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ১০ দলীয় জোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. জিল্লুর রহমান, কমিউনিস্ট পাটির আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির মুহাম্মদ রাশেদুল হক এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. আ. রাজ্জাক। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থিতা (বিএনপির বিদ্রোহী) হিসেবে মাঠে রয়েছেন মোহাম্মদ সালমান ওমর।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করে প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের মতিউর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হাসান। তবে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার, খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মাওলা ভূঁইয়া, সুপ্রিম পার্টির জুলহাস উদ্দিন শেখ এবং জাতীয় পার্টির এমদাদুল হক খান। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় লড়বেন মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক ও সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার।
জমিদারি স্থাপত্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ৭ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও অবশেষে প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের মো. ফজলুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর বদরুজ্জামান। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়বেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ইঞ্জি. এম. ইকবাল হোসেইন, ১০ দলীয় জোটে নেজামে ইসলাম পার্টির হাফেজ মাওলানা মো. আবু তাহের খান, ইসলামী আন্দোলনের মো. শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এ.কে.এম. আরিফুল হাসান এবং বিএনপির বিদ্রোহী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান।
বিভাগীয় নগরীর হেভিওয়েট ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ১০ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও অবশেষে প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের মোস্তাক আহম্মদ। বর্তমানে ভোটের মাঠে চূড়ান্ত লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ১০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল, জাতীয় পার্টির মূসা সরকার, কমিউনিস্ট পার্টির এমদাদুল হক মিল্লাত, গণসংহতি আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দিন এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শেখর কুমার রায়, সুপ্রিম পার্টির লিয়াকত আলী, এনপিপির হামিদুল ইসলাম।
রাজা-জমিদারের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও অবশেষে প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম। চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, জোটগত জামায়াতে প্রার্থী মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, এবি পার্টির রফিকুল ইসলাম এবং গণসংহতি আন্দোলনের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
লাল চিনি ও কাঁচা হলুদে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বৈধ ছিল ৮ জন। তবে শেষদিনে খেলাফত মজলিসের রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপির বিদ্রোহী আব্দুল করিম সরকার মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় আসনটিতে চূড়ান্তভাবে ভোটে লড়বেন ৬ প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির আখতারুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের নূরে আলম সিদ্দিকী, জামায়াতের বিদ্রোহী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ও সাবেক সাংসদ আখতার সুলতানা।
শিল্পায়নের উর্বর জনপদ ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের আ. কুদ্দুস ও নজরুল ইসলাম। তবে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় ভোটে লড়বেন বিএনপির ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন, জামায়াতে ইসলামীর আসাদুজ্জামান সোহেল, জাতীয় পাটির জহিরুল ইসলাম, বিএনপির বিদ্রোহী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত এবং স্বতন্ত্র জয়নাল আবদীন।
কাঁচামাটিয়া নদীবেষ্টিত ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনজুরুল হক হাসান ও খেলাফত মজলিসের আহাম্মদ হোসেন ভূঞা। চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপির লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ইসলামী আন্দোলনের শাহ নূরুল কবির, ১০ দলীয় জোটে এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল এবং জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী মামুন বিন আব্দুল মান্নান। ফলে আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় টিকে আছেন বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী, ১০ দলীয় জোটে ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, জাতীয় পার্টির হাসমত মাহমুদ, গণফোরামের লতিফুল বারী (হামিম), ইসলামী আন্দোলনের সাঈদুর রহমান এবং সাবেক এমপির স্ত্রী (বিএনপির বিদ্রোহী) হাসিনা খান চৌধুরী।
রাজনীতির রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ১২ প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী আলমগীর মাহমুদ, আল ফাতাহ মো. আ. হান্নান এবং মুশফিকুর রহমান। তবে আসনটিতে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় রয়েছেন বিএনপির আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, জামায়াতে ইসলামীর ইসমাঈল, জাতীয় পার্টির আল আমিন সোহান, ইসলামী আন্দোলনের হাবিবুল্লাহ বেলালী, এলডিপির সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ, কমিউনিস্ট পার্টির সাইফুস সালেহীন, গণসংহতি আন্দোলনের এ.কে.এম. শামসুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান এবং বিএনপির বিদ্রোহী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান ওরফে এবি দিদ্দিক। এর মধ্যে এবি সিদ্দিকুর রহমান পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক পার্টনার। ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করার মামলার আসামি তিনি।
শিল্পাঞ্চল হিসাবে খ্যাত ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান। বর্তমানে চূড়ান্ত প্রার্থিতায় ভোটে লড়ছেন বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, এনসিপির জাহিদুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা কামাল এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম।
এ বিষয়ে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান বলেন, বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। আসন্ন ভোট নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
What's Your Reaction?