ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোটি টাকার কেনাকাটায় লোপাটের অভিযোগ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ দামে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়, স্বাক্ষর জালিয়াতি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। হাসপাতালের ক্রয় কমিটির মূল্যায়ন ও সার্ভে বিভাগের সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়সার হাসান খান সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। রোববার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. মো. কায়সার হাসান খান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক কেনাকাটায় বিশাল অঙ্কের অর্থ কারচুপি করেছেন। এছাড়াও ডা. জামাল উদ্দিন হাসপাতালে বৈকালিক চেম্বারে আমার প্রাপ্ত টাকা থেকে ১০ হাজার জোর করে আদায় করেন। শুধু তাই নয়, সহকর্মীদের কাছ থেকে ও তিনি রীতিমতো চাঁদাবাজি করেন। এখনো তিনি স্থানীয় অসাধু লোকজনকে সাথে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক ক
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ইডিসিএল বহির্ভূত দরপত্রের মাধ্যমে উচ্চ দামে নিম্নমানের ওষুধ ক্রয়, স্বাক্ষর জালিয়াতি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। হাসপাতালের ক্রয় কমিটির মূল্যায়ন ও সার্ভে বিভাগের সভাপতি ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়সার হাসান খান সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
রোববার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. মো. কায়সার হাসান খান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন প্রায় ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক কেনাকাটায় বিশাল অঙ্কের অর্থ কারচুপি করেছেন। এছাড়াও ডা. জামাল উদ্দিন হাসপাতালে বৈকালিক চেম্বারে আমার প্রাপ্ত টাকা থেকে ১০ হাজার জোর করে আদায় করেন। শুধু তাই নয়, সহকর্মীদের কাছ থেকে ও তিনি রীতিমতো চাঁদাবাজি করেন। এখনো তিনি স্থানীয় অসাধু লোকজনকে সাথে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানিমূলক কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের জন্য নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণ করতে বলা হয়। আমি তা করতে অস্বীকৃতি জানালে অফিস প্রধানের রোষানলের শিকার হই। পরে জোরপূর্বক সেসব ঔষধ হাসপাতাল স্টোরে মজুত করার নির্দেশ দেন ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে তদন্তে আসেন। এ সময় তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে বহিরাগত প্রায় দেড় থেকে দুইশ সন্ত্রাসী হাসপাতালের ভেতরে অতর্কিত হামলা চালায়। তদন্ত কমিটির সদস্যদের এবং আমাকে ও আমার গাড়ির চালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মব তৈরি করে। পরে সেখান থেকে আমি কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পাই।
লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে এ ব্যাপারে আমি জানতাম না। অনেক পরে আমি এ বিষয়ে জানতে পেরেছি। আমার অজ্ঞাতে আরও অনেক ধরনের অনিয়ম এখানে হয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করারা কারণে আমার উপর বিভিন্নভাবে দায় চাপিয়ে সুনামহানি করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল উঠে পড়ে লেগেছে।
এসব বিষয়ে আমি এর আগেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।
ডা. মো. কায়সার হাসান খান বলেন, তার অজ্ঞাতে মূল্যায়ন কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইমতিয়াজ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে তারই সহধর্মিণী ডা. শামীমা সুলতানাকে রাখা হয়েছে। যিনি পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা।
এমনকি মূল্যায়ন কমিটির কোনো চিঠি বা অফিস আদেশ কখনই তিনি পাননি। এই সুযোগে তার অজান্তে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে এবং ডা. কায়সারের নামে আইডি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তার ইলেক্ট্রনিক স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটিতে জোরপূর্বক আমাকে দিয়ে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করাতে চেষ্টা করতে ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
What's Your Reaction?