যবিপ্রবিরর বাসের সাথে সংঘর্ষে মৃত্যু, নিহতের পরিবারের জন্যে ফাণ্ড কালেকশন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(যবিপ্রবি) ভাড়ায় চালিত বিআরটিসি বাসের সাথে নসিমনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় যাত্রী হাফিজুরের। স্বামীর মৃত্যুতে দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন রেহেনা বেগম। এদিকে পরিবারটির অপূরণীয় ক্ষতি পূরণে দীর্ঘ মেয়াদি সহযোগিতার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় নেওয়া বিআরটিসি একতলা বাসের সঙ্গে একটি মালবাহী নসিমনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সড়ক পার হওয়া একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নসিমন চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং এক পর্যায়ে অপর পাশ দিয়ে আসা বিআরটিসি বাসের সাথে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় যাত্রী হাফিজুর রহমান নিহত হন। নিহত হাফিজুরের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামে। তাঁর পরিবারে ৪ মেয়ে সন্তানসহ এক স্ত্রী রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী মেয়ে মিতু(২৫) ও ছোট মেয়ে ফারিহাকে(১১) নিয়ে শোকাবহ দিন অতিবাহিত করছেন মা রেহেনা বেগম। পেশায় দর্জি স্বামীর রেখে যাওয়া শুধু বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই রেহেনা বেগমের। নিহত হাফিজুরের ছোটভাই

যবিপ্রবিরর বাসের সাথে সংঘর্ষে মৃত্যু, নিহতের পরিবারের জন্যে ফাণ্ড কালেকশন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(যবিপ্রবি) ভাড়ায় চালিত বিআরটিসি বাসের সাথে নসিমনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় যাত্রী হাফিজুরের। স্বামীর মৃত্যুতে দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন রেহেনা বেগম। এদিকে পরিবারটির অপূরণীয় ক্ষতি পূরণে দীর্ঘ মেয়াদি সহযোগিতার দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা।

গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ায় নেওয়া বিআরটিসি একতলা বাসের সঙ্গে একটি মালবাহী নসিমনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সড়ক পার হওয়া একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নসিমন চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং এক পর্যায়ে অপর পাশ দিয়ে আসা বিআরটিসি বাসের সাথে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় যাত্রী হাফিজুর রহমান নিহত হন।

নিহত হাফিজুরের বাড়ি চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামে। তাঁর পরিবারে ৪ মেয়ে সন্তানসহ এক স্ত্রী রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী মেয়ে মিতু(২৫) ও ছোট মেয়ে ফারিহাকে(১১) নিয়ে শোকাবহ দিন অতিবাহিত করছেন মা রেহেনা বেগম। পেশায় দর্জি স্বামীর রেখে যাওয়া শুধু বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই রেহেনা বেগমের।

নিহত হাফিজুরের ছোটভাই আতাউর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবন্ধী মেয়ের মাসিক চিকিৎসা খরচ প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ফারিহার পড়াশোনার খরচ চালিয়ে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি। গত ২২ জুন এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ফার্নিচার দিতে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় আমার ভাইয়ের। এখন সংসারের খরচে কিভাবে চালাবে আমার ভাবি? আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমার ভাইয়ের পরিবারের কাউকে একটা স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দিক যাতে পরিবারটির নির্বিঘ্নে জীবনযাপন করতে পারে।

প্রতিবেশী ফয়সাল আহমেদ বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায্য ও পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা এবং পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর কোনো পরিবারকে সহ্য করতে না হয়, সে জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা একটি ফাণ্ড কালেকশন শুরু করেছেন। বিকাশ ও উপায় ০১৯৯৭-৯৫০৭৩৭, রকেট ০১৭০৩২২৬২৫৩৩ এবং নগদ ০১৯৯১৯০২৩৯৭ নং এ অর্থ সংগ্রহ করছেন শিক্ষার্থীরা। মানবতার সেবায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা। যবিপ্রবির শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সাথে অ্যাক্সিডেন্ট করে নিহত হয়েছে। এই দায়িত্ববোধ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বাড়িতে যাই। যেহেতু তার পরিবারে কোনো ছেলে বা অন্যান্য কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই তাই এমন কিছু করতে চাই যেন তাদেরকে এরপরে অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া না লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জায়গা থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করবে আমরা আমাদের মানবিকতার জায়গা থেকে পালন করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য(রুটিন দায়িত্ব) ড. ইঞ্জি. ইমরান খান বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের বর্তমান অবস্থা আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। যেহেতু আমি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, অনেক কিছু করার এখতিয়ার আমার নেই। উপাচার্য স্যার আগামীকাল অফিস করবেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে যেন নিহত পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয় সেটা তুলে ধরবো উপাচার্য মহোদয়ের নিকট।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow