যমুনার ভাঙনে নাগরপুরে অর্ধশত বাড়ি ও মসজিদ বিলীন, আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নাগরপুর সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, কুয়েতি মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা ও হাটবাজার।গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকেই ধসে পড়ছে নদীর তীর। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি আসবাবপত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে। বাস্তুভিটা হারিয়ে অসহায় পরিবার কেউ কেউ নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীর পাড়ের সহস্রাধিক পরিবার। গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটা মাটি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাক্ষসী যমুনার গর্ভে তলিয়ে গেছে কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরনো মসজিদ।ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙ

যমুনার ভাঙনে নাগরপুরে অর্ধশত বাড়ি ও মসজিদ বিলীন, আতঙ্কে সহস্রাধিক পরিবার

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নাগরপুর সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর, কুয়েতি মসজিদ, ফসলি জমি ও বহু গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে পাকা রাস্তা, স্কুল, মাদ্রাসা ও হাটবাজার।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার প্রবল স্রোতে চোখের পলকেই ধসে পড়ছে নদীর তীর। ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি আসবাবপত্র নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।

বাস্তুভিটা হারিয়ে অসহায় পরিবার কেউ কেউ নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার অনেকেই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীর পাড়ের সহস্রাধিক পরিবার। গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে সলিমাবাদ পশ্চিমপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ভিটা মাটি এবং শত শত বিঘা ফসলি জমি ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রাক্ষসী যমুনার গর্ভে তলিয়ে গেছে কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত ২২ বছরের পুরনো মসজিদ।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়, কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। ফলে বারবার তাদের ঘরবাড়ি সরাতে হয়। ভিটেমাটি হারিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

নদী গর্ভে শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আব্দুল হক (৫০)। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ে তার বসতবাড়ি। গোটা বসতবাড়ি এখন নদীর পেটে। বসতবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সহায় সম্বল হারিয়ে তিনি এখন দিশেহারা।

সুফিয়ান (৫২) নামের আরেক ব্যক্তি জানান, তার একটি মাত্র ছাপরা ঘর ছিল। গাছপালাসহ বসত ঘরটি সর্বগ্রাসী যমুনা গিলে খেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ জামাল জানান, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ বিঘা জমি সহ বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। একই অবস্থা ওই এলাকার কালাম, ছালাম, বাবুল, শাহআলম, মতিন ও শাহীন সহ আরো অনেকের।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূইয়া জানান, যমুনা নদীর তীরে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতি বছর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী ভাঙন শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনই জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বেরিবাঁধ না হলে মানচিত্র থেকে মুছে যাবে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্ধৃতি দিয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, ভাঙন রোধে ৫টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা শেষে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow