যশোরে চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম দম্পতি কারাগারে

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় আত্মসমর্পণকারী চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে যশোরের বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম আসামিদের জামিন আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামি জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামতলা গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি আসাদুজ্জামান খান সেলিম। মামলার অভিযোগে জানা যায়, জসিম উদ্দিন ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরিরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ মে তাকে পুলিশ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে এলে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ চেয়ে পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়। দুদকের তদন্তে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের নামে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ টাকার স্থাবর ও অস্থা

যশোরে চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম দম্পতি কারাগারে

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং মামলায় আত্মসমর্পণকারী চাকরিচ্যুত পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে যশোরের বিশেষ দায়রা জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম আসামিদের জামিন আবেদন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামি জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম যশোরের চৌগাছা উপজেলার জামতলা গ্রামের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি আসাদুজ্জামান খান সেলিম।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, জসিম উদ্দিন ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিনি সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। চাকরিরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৮ সালের ১৮ মে তাকে পুলিশ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে এলে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ চেয়ে পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়।

দুদকের তদন্তে জানা যায়, জসিম উদ্দিনের নামে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ২৩৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং তার স্ত্রী ফারহানা ইসলামের নামে ১ কোটি ৩১ লাখ ১ হাজার ৭৯০ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। দুজনের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকা। এর বিপরীতে দোকান ভাড়া থেকে বৈধভাবে অর্জিত মাত্র ৬ লাখ টাকার উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৩ টাকা।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিনি ২০২১ সালের ২১ মার্চ জসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে আদালত মামলার অভিযোগ গঠন শেষে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার জসিম দম্পতি আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মিলন রহমান/জেএইচ

 

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow