যশোর আইটি পার্কে চালডাল ডটকমের কর্মীদের বিক্ষোভ
বকেয়া বেতনের দাবিতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকমের’ কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (০২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পার্কটির ভেতরে ও কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় পার্কটির বাইরে থাকা কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে প্রধান ফটক ভাঙচুর করে। এ সময় দুই কর্মী আহত হয়েছেন। পরে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি যেয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে। আন্দোলনকারীরা জানান, গ্রোসারি শপের পণ্য নিয়ে পার্কটিতে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে চালডাল ডটকম নামে অনলাইন ই কমার্স প্রতিষ্ঠান। আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে ৮ শতাধিক কর্মী ই কমার্স প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারে চাকরি করেন। নিয়মিত অফিস করলেও গত তিন মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। অধিকাংশ কর্মী যশোর শহরে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করেন। ফলে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের হেনস্তা করা হয়। জানা গেছে, সোমবার বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের কল সেন্টারের মোবাইল নিয়ে নেন প্রতিষ্ঠা
বকেয়া বেতনের দাবিতে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত গ্রোসারি শপ ‘চালডাল ডটকমের’ কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (০২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পার্কটির ভেতরে ও কার্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এ সময় পার্কটির বাইরে থাকা কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলে প্রধান ফটক ভাঙচুর করে। এ সময় দুই কর্মী আহত হয়েছেন। পরে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি যেয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গ্রোসারি শপের পণ্য নিয়ে পার্কটিতে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে চালডাল ডটকম নামে অনলাইন ই কমার্স প্রতিষ্ঠান। আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় চালডালের কল সেন্টারটি পরিচালিত হয়। সেখানে ৮ শতাধিক কর্মী ই কমার্স প্রতিষ্ঠানটির কল সেন্টারে চাকরি করেন। নিয়মিত অফিস করলেও গত তিন মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। অধিকাংশ কর্মী যশোর শহরে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চাকরি করেন। ফলে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের হেনস্তা করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার বেতন চাইতে গেলে কর্মীদের কল সেন্টারের মোবাইল নিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফলে কর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ কর্মীরা পার্কটির প্রধান ফটক ভাঙচুর করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ ও পার্কের ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রমি নামে এক কর্মী জানান, আমরা এতদিন ধরে বেতন পাচ্ছি না; কোনো বিক্ষোভও করিনি। মানবেতর জীবনযাপন করাতে বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি করতে হচ্ছে। আমরা এখানে যারা কাজ করি; তাদের বৃহৎ একটি অংশ শিক্ষার্থী। এ বেতন দিয়েই চলতে হয়। কাজ করছি, কিন্তু বেতন পাচ্ছি না। বেতন চাইতে গেলে চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বলে। চলে যেতে চাইলেও বেতন দেয় না। আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে এখানকার কর্মকর্তারা।
আজমীর নামে আরেক কর্মী বলেন, আমাদের এখানে আট শতাধিক কর্মী রয়েছে। কেউ ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন চাইতে গেলে কয়েকজনকে মারধরও করার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। রোজা ঈদের আগে বেতন পরিশোধের কথা বলাতেই আমাদের অনেকের চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের কল সেন্টারের ফোনও নিয়ে নিয়েছে। বেতন না দেওয়াতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করাতে বাধা দেওয়াতে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বেতন দ্রুত না দিলে আমরা এখান থেকে কেউ যাব না। এমনকি আমাদের আন্দোলন এভাবে চলবে।
পার্কটির ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাজালাল বলেন, কর্মীদের বিক্ষোভে শুনে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকা দুঃখজনক। বিক্ষোভের বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, কর্মীদের বেতন পরিশোধে চালডাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
চালডাল ডটকম যশোরের সহকারী পরিচালক অভিজিৎ সরকার বলেন, আমি শুরু থেকে এখানে কাজ করছি। আগে বেতন নিয়ে এমন হয়নি। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়াতে এ অবস্থা। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, বিক্ষোভের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি সমাধানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
What's Your Reaction?