যাত্রাপথে শিশু বমি করছে? জানুন করণীয়
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর প্রিয়জনদের কাছে ছুটে যাওয়া। তবে দীর্ঘ ভ্রমণে অনেক অভিভাবকের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার নাম হলো শিশুর বমি বা মোশন সিকনেস। বাস, গাড়ি, লঞ্চ কিংবা মাইক্রোবাসে উঠলেই অনেক শিশু অস্বস্তি অনুভব করে, মাথা ঘোরে, বমি বমি লাগে কিংবা বারবার বমি করে ফেলে। এতে শিশুর কষ্ট তো হয়ই, পুরো যাত্রাটাই হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ ও চোখের দেখা তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে মোশন সিকনেস হয়। সাধারণত ২ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে কিছু সহজ প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কেন হয় মোশন সিকনেস? যখন শিশু চলন্ত গাড়ির ভেতরে বসে থাকে, তখন তার চোখ, কান ও মস্তিষ্ক ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পায়। উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি চললেও শিশুর চোখ গাড়ির ভেতরের স্থির জিনিস দেখে। কিন্তু কানের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ বুঝতে পারে শরীর চলছে। এই দ্বন্দ্ব থেকেই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও বমির সমস্যা তৈরি হয়। যাত্রার আগে যা করবেন হালকা খাবার খাওয়ান: ভ্রমণের আগে শিশুকে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খ
ঈদ মানেই আনন্দ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর প্রিয়জনদের কাছে ছুটে যাওয়া। তবে দীর্ঘ ভ্রমণে অনেক অভিভাবকের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার নাম হলো শিশুর বমি বা মোশন সিকনেস। বাস, গাড়ি, লঞ্চ কিংবা মাইক্রোবাসে উঠলেই অনেক শিশু অস্বস্তি অনুভব করে, মাথা ঘোরে, বমি বমি লাগে কিংবা বারবার বমি করে ফেলে। এতে শিশুর কষ্ট তো হয়ই, পুরো যাত্রাটাই হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ ও চোখের দেখা তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে মোশন সিকনেস হয়। সাধারণত ২ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে কিছু সহজ প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন হয় মোশন সিকনেস?
যখন শিশু চলন্ত গাড়ির ভেতরে বসে থাকে, তখন তার চোখ, কান ও মস্তিষ্ক ভিন্ন ভিন্ন সংকেত পায়। উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি চললেও শিশুর চোখ গাড়ির ভেতরের স্থির জিনিস দেখে। কিন্তু কানের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ বুঝতে পারে শরীর চলছে। এই দ্বন্দ্ব থেকেই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও বমির সমস্যা তৈরি হয়।
যাত্রার আগে যা করবেন
- হালকা খাবার খাওয়ান: ভ্রমণের আগে শিশুকে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খাওয়াবেন না। আবার একেবারে খালি পেটেও রাখা ঠিক নয়। হালকা খাবার যেমন বিস্কুট, কলা, পাউরুটি বা অল্প ভাত খাওয়ানো ভালো।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন: ঘুম কম হলে শিশুর বমি বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই যাত্রার আগের রাতে শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া জরুরি।
- প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখুন: টিস্যু, পলিথিন ব্যাগ, পানির বোতল, অতিরিক্ত জামাকাপড়, ভেজা টিস্যু ও ছোট তোয়ালে সঙ্গে রাখুন। এতে হঠাৎ বমি হলেও দ্রুত সামলানো সহজ হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ: যদি শিশুর নিয়মিত মোশন সিকনেস হয়, তাহলে ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ না দেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন:
- ঈদে যেমন হওয়া উচিত ডায়াবেটিস রোগীর প্রস্তুতি
- পশুর হাটে যাওয়ার আগে সঙ্গে যা রাখবেন
- কোরবানির ব্যস্ততার আগে সেরে ফেলুন এই বাজার
যাত্রাপথে কী করবেন?
- সামনের দিকে বসান: সম্ভব হলে শিশুকে গাড়ির সামনের দিকে বসান। এতে ঝাঁকুনি কম লাগে এবং রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতে সুবিধা হয়।
- বাইরে তাকাতে উৎসাহ দিন: দূরের কোনো স্থির বস্তু বা রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকলে মোশন সিকনেস কম হতে পারে। মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখা বা বই পড়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
- বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন: গাড়ির ভেতর গরম বা বন্ধ পরিবেশ শিশুর অস্বস্তি বাড়ায়। জানালা কিছুটা খোলা রাখা বা ঠান্ডা বাতাসের ব্যবস্থা রাখা উপকারী।
- অল্প অল্প পানি পান করান: বমির পর শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই শিশুকে অল্প অল্প করে পানি বা ওরস্যালাইন পান করান। একসঙ্গে বেশি পানি খাওয়ালে আবার বমি হতে পারে।
- আদা উপকারী হতে পারে: কিছু ক্ষেত্রে আদা বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। বড় শিশুদের অল্প আদা চা বা আদা মিশ্রিত খাবার দেওয়া যেতে পারে। তবে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বমি হলে কী করবেন?
- শিশুকে আতঙ্কিত করবেন না
- মুখ পরিষ্কার করে দিন
- জামাকাপড় ভিজে গেলে বদলে দিন
- কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে দিন
- বমির পর সঙ্গে সঙ্গে ভারী খাবার দেবেন না
- অল্প বিস্কুট বা শুকনো খাবার দিতে পারেন
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
শুধু সাধারণ মোশন সিকনেস হলে সাধারণত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-
- বারবার বমি হওয়া
- শিশুর শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাওয়া
- জ্বর বা তীব্র মাথাব্যথা থাকা
- পানি খেলেও বমি হওয়া
- শিশুর শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেওয়া
- দীর্ঘসময় প্রস্রাব না হওয়া বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেওয়া
- শিশু যেন আনন্দে ভ্রমণ করতে পারে
ঈদের যাত্রা আনন্দের হওয়ার কথা। একটু সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতি থাকলে শিশুর মোশন সিকনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শিশুকে স্বস্তিতে রাখুন, ধৈর্য ধরুন এবং প্রয়োজনে বিরতি নিয়ে যাত্রা করুন। তাহলে পরিবারের ছোট সদস্যটিও ঈদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবে হাসিমুখে।
জেএস/
What's Your Reaction?