যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয়দের সৈন্য সমাবেশ শুরু

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর দ্বীপটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সেনারা আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপের নিরাপত্তা জোরদারে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ জন এবং জার্মানি ১৩ জন সেনা পাঠিয়েছে। এ উদ্যোগে নরওয়ে ও সুইডেনও অংশ নিচ্ছে। এই মিশনকে ‘রিকগনিশন অব দ্য টেরিটরি’ বা ভূখণ্ডের উপস্থিতি জানানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রথম ফরাসি সামরিক দল ইতোমধ্যেই পথে রয়েছে, আরও সদস্য যোগ দেবে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের সেনারা ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে পৌঁছেছে। দুই দিনের এই মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় সেনাদের দ্রুত মোতায়েনের সক্ষম প্রদর্শন করা হবে। এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয়দের সৈন্য সমাবেশ শুরু
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর দ্বীপটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সেনারা আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপের নিরাপত্তা জোরদারে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ জন এবং জার্মানি ১৩ জন সেনা পাঠিয়েছে। এ উদ্যোগে নরওয়ে ও সুইডেনও অংশ নিচ্ছে। এই মিশনকে ‘রিকগনিশন অব দ্য টেরিটরি’ বা ভূখণ্ডের উপস্থিতি জানানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রথম ফরাসি সামরিক দল ইতোমধ্যেই পথে রয়েছে, আরও সদস্য যোগ দেবে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের সেনারা ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে পৌঁছেছে। দুই দিনের এই মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় সেনাদের দ্রুত মোতায়েনের সক্ষম প্রদর্শন করা হবে। এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ সদস্যের একটি গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ দল গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ডেনমার্ক জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে। একই দিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায় থেকে ওয়াশিংটনকে সরে আসতে রাজি করানো যায়নি বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন। তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার অবস্থান বদলাতে পারিনি। এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। বৈঠকের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমাদের সত্যিই গ্রিনল্যান্ড দরকার। আমরা সেখানে না গেলে রাশিয়া যাবে, চীন যাবে। ডেনমার্ক কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু আমরা সবকিছু করতে পারি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উপস্থিতি ও খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনায় স্থানীয় ইনুইট জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের ইলুলিসাত শহরের ইনুইট বাসিন্দারা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বুধবারের বৈঠকের আগে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইলুলিসাত আইসফিয়র্ড ভিজিটর সেন্টারের প্রধান কার্ল স্যান্ডগ্রিন বলেন, আমার আশা, আলোচনায় রুবিও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবেন।তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা ইনুইট, হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছি। এটা আমার মেয়ে ও ছেলের ভবিষ্যৎ। এটা কেবল সম্পদের কথা ভাবা মানুষের ভবিষ্যৎ নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow