যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ যুদ্ধবিমান-ড্রোন বিধ্বস্তে কংগ্রেসের উদ্বেগ

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস থেকে প্রকাশিত একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে কয়েক ডজন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪২টি বিমান ক্ষতি বা দুর্ঘটনার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম এসব ঘটনাকে সরাসরি ইরানের হামলায় ভূপাতিত বিমান হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে কংগ্রেশনাল নথিতে আরও জটিল চিত্র দেখা গেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ, মিত্রপক্ষের ভুল হামলা, অপারেশনাল দুর্ঘটনা এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং মানববিহীন নজরদারি ও হামলা ড্রোন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটেনিং II, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ড II, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ যুদ্ধবিমান-ড্রোন বিধ্বস্তে কংগ্রেসের উদ্বেগ

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস থেকে প্রকাশিত একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে কয়েক ডজন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৪২টি বিমান ক্ষতি বা দুর্ঘটনার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যম এসব ঘটনাকে সরাসরি ইরানের হামলায় ভূপাতিত বিমান হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে কংগ্রেশনাল নথিতে আরও জটিল চিত্র দেখা গেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ, মিত্রপক্ষের ভুল হামলা, অপারেশনাল দুর্ঘটনা এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং মানববিহীন নজরদারি ও হামলা ড্রোন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটেনিং II, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ড II, সাতটি কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমান এবং একটি ই-৩ সেইন্ট্রি সতর্কীকরণ বিমান।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে দুটি এমসি -১৩০ কমান্ডো II, একটি এইচএইচ-৬০ ডব্লিও জলি গ্রিন II উদ্ধার হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপনীয়তা, চলমান সামরিক তৎপরতা এবং ঘটনার দায় নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মোট ক্ষতির সংখ্যা ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে।

নথিতে স্বীকার করা হয়েছে, ইরানের হামলায় একটি এফ-৩৫ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া একটি এ-১০ বিমান অভিযানের সময় হামলার কারণে বিধ্বস্ত হয়।

একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থিত সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কয়েকটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের ভেতরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাকারী দুটি এমসি-১৩০ বিমান উড্ডয়ন করতে না পারায় সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট এর আগে।

আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, বিমান প্রতিস্থাপনের প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, কিছু পুরোনো বিমানের উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো প্রতিস্থাপন করা বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, ই-৩ সেইন্ট্রি বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল নতুন প্রতিস্থাপন কর্মসূচি নিয়ে পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, বিমান ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত এই ব্যয় ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক ব্যয়ের বাইরে, কংগ্রেশনাল মূল্যায়নে সামরিক কৌশল এবং বাহিনীর অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow