যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেবে তুরস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেবে তুরস্ক। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সফরের সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে আঙ্কারা। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির শুক্রবারের সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালাতে তারা সক্ষম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি এক কূটনৈতিক জানিয়েছেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার আরাঘচিকে জানাবেন যে, আঙ্কারা সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান উত্তেজনা নিরসনে অবদান রাখতে প্রস্তুত। সূত্রটি আরও জানায়, ফিদান ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করবেন, কারণ এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেবে তুরস্ক। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সফরের সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও বিবেচনা করছে আঙ্কারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির শুক্রবারের সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে ইরানে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানে হামলা চালাতে তারা সক্ষম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুর্কি এক কূটনৈতিক জানিয়েছেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার আরাঘচিকে জানাবেন যে, আঙ্কারা সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান উত্তেজনা নিরসনে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
সূত্রটি আরও জানায়, ফিদান ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করবেন, কারণ এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে গতকাল বুধবার ফিদান জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া জরুরি এবং এটিই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।
আল জাজিরা টেলিভিশনকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে এটি হবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আবার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, তুরস্ক স্বল্পমেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে সমর্থন করবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে সহায়তা দিবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই সফরটি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, তেহরান সুপ্রতিবেশী নীতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক মনে করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে; যার মধ্যে অস্থিতিশীলতা ও ব্যাপক অভিবাসন প্রবাহ অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে আঙ্কারা কূটনীতিক পথকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আঙ্কারাভিত্তিক ইরানি একাডেমিক আরিফ কেসকিন এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুরস্কের মূল লক্ষ্য সব বিরোধ মেটানো নয়, বরং সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানো। তিনি বলেন, তুরস্কের অবস্থান ইরানের ভেতরের আলোচনাপন্থী গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কেসকিনের ভাষ্য, এই পর্যায়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে আলোচনা ও সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ইরানি নেতৃত্বই। তার মতে, আলোচনা শুরু হওয়াটাই ইরানের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএফপিকে এক জ্যেষ্ঠ তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলায় ইরান অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করছে আঙ্কারা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তুরস্ক-ইরান সীমান্তের বড় অংশ প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত হলেও, তা অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়েছে।
What's Your Reaction?