যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির আগে লেবাননে আগ্রাসন বাড়ালো ইসরায়েল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই লেবাননে সামরিক আগ্রাসন নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী এখন লেবাননের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগত ‘লিটানি নদী’ অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে তেহরান কোনো কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আগেই দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে চায় তেল আবিব। প্রতিদিন ১১ শিশু হতাহত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন তীব্র রূপ নেওয়ায় সেখানে ভয়াবহ বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুধু বেসামরিক নাগরিকই নয়, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার অনেকগুলোরই বাইবেল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই লেবাননে সামরিক আগ্রাসন নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী এখন লেবাননের আরও গভীরে প্রবেশ করেছে এবং সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগত ‘লিটানি নদী’ অতিক্রম করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে তেহরান কোনো কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আগেই দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি কোণঠাসা করতে চায় তেল আবিব।
প্রতিদিন ১১ শিশু হতাহত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন তীব্র রূপ নেওয়ায় সেখানে ভয়াবহ বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে প্রতিদিন গড়ে ১১ জন করে শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
শুধু বেসামরিক নাগরিকই নয়, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানও ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যার অনেকগুলোরই বাইবেলীয় ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।
আগ্রাসনের মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠক
মাঠপর্যায়ে তীব্র লড়াই ও বিমান হামলার মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) শুক্রবার এই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক প্রচেষ্টায় উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতির প্রশংসাও করেছে ওয়াশিংটন। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর মতো রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত একটি সার্বভৌম লেবানন গঠনে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্টের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট আউন দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফোনালাপে মার্কো রুবিও এই চলমান সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছেন।
সূত্র: সিএনএন
কেএএ/
What's Your Reaction?