যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও রাশিয়ার বিরোধিতার মধ্যেই মেয়াদ বাড়ল ভলকার টুর্কের
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা ও হুঁশিয়ারির পরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইসরায়েলও এ অনুমোদনের নিন্দা ও বিরোধিতা করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভলকার টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরাশক্তিগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন দেশ থেকেই তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। খবর রয়টার্স সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ভোট জাতিসংঘ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং জাতিসংঘের কয়েক ডজন সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ার সময়ে মানবাধিকার প্রধানের এই পদ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ এর আগে র
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা ও হুঁশিয়ারির পরও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইসরায়েলও এ অনুমোদনের নিন্দা ও বিরোধিতা করেছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ভলকার টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরাশক্তিগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে রাশিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন দেশ থেকেই তিনি তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন। খবর রয়টার্স
সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ভোট জাতিসংঘ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছে এবং জাতিসংঘের কয়েক ডজন সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ার সময়ে মানবাধিকার প্রধানের এই পদ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ এর আগে রাশিয়ার একটি পাল্টা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ওই প্রস্তাবে টুর্কের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস টুর্কের বর্তমান মেয়াদ অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর তাকে আরও চার বছরের জন্য রাখার প্রস্তাব দেন। সাধারণ পরিষদে গুতেরেসের এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪৪টি দেশ, বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ১৩টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পদটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার ক্ষয় ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ পরিচালক লুই শারবোন্নো বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের ওপর আক্রমণের জন্য এমন একজন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান প্রয়োজন, যিনি চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর চাপকে ভয় না পেয়ে মানবাধিকার রক্ষাকারী জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে দুর্বল ও অর্থহীন করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন।’
অস্ট্রিয়ার নাগরিক টুর্ক একজন আইনজীবী। তিনি কয়েক দশক ধরে জেনেভাসহ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় এবং কসোভোর মতো বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের এলাকায় কাজ করেছেন। তিনি হবেন প্রথম জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান, যিনি পরপর দুইবার চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্র পরামর্শের জন্য ভোট এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং গুতেরেসের প্রস্তাব অনুমোদনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল।
ভোটের আগে জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি জেফ বার্টোস সাধারণ পরিষদে বলেন, ‘ভলকার টুর্কের পুনর্নিয়োগের পক্ষে ভোট প্রমাণ করে, জাতিসংঘের সবচেয়ে কঠোর সমালোচকরাও যে এটিকে অকার্যকর সংস্থা বলে দাবি করেন, তা সঠিক।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না, যদি এই পরিষদ প্রক্রিয়াগত সীমালঙ্ঘন, গোপন সমঝোতা এবং জাতিসংঘের পদগুলোর অপব্যবহার মেনে নেয়, তাহলে এর পরিণতি হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ এবং অর্থায়ন পুনর্মূল্যায়ন করবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকার দেশগুলো এবং অনেক লাতিন আমেরিকার দেশ টুর্কের চার বছরের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে সমর্থন দেয়। চীনও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র টুর্কের পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘প্রক্রিয়াগত অনিয়ম’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি বলেন, দ্রুত ভোট আয়োজন এবং সদস্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত আলোচনা ও নজরদারির সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা জাতিসংঘের ‘অন্তর্নিহিত দুর্নীতি ও অদক্ষতার আরেকটি উদাহরণ’।
ভোটের পর জাতিসংঘে রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি চুমাকভ ভলকার টুর্কের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, টুর্ক পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, গুতেরেস ঐক্যের বিষয় সামনে না এনে সাধারণ পরিষদে ‘আরেকটি বিভেদের কারণ’ তৈরি করেছেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুতেরেসের টুর্ককে বহাল রাখার প্রস্তাবকে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার মতো ইসরায়েলও বলেছে, নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
What's Your Reaction?