যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন
দোয়া-মুনাজাত একজন আদর্শ মুমিনের নিয়মিত আমল। নামাজে যেমন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ কাছে দোয়া করে, নামাজের বাইরেও জানা-অজানা গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যে কোনো অভাব-অভিযোগও আল্লাহ তাআলার কাছেই পেশ করে, তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে। দোয়া যেমন আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যম, দোয়া আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও ইমানও প্রকাশ করে। মুমিন বান্দার বিনয় ও অহংকারহীনতাও প্রকাশ করে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া কর, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হতে বিমুখ তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সুরা গাফির: ৬০) অনেকে অভিযোগ করেন, আমি দোয়া করি, কিন্তু কবুল হয় না। দোয়া সব সময় কবুল হওয়া জরুরি নয়। কবুল না হলে দোয়া করা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। দোয়া যদি তাৎক্ষণিকভাবে কবুল না হয়, তবুও বান্দা দোয়ার প্রতিদান পায়। আল্লাহর কাছে কৃত দোয়া কখনও ব্যর্থ হয় না। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি এমন দোয়া করে যে দোয়াতে কোনো পাপ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, তাহলে আল্লাহ
দোয়া-মুনাজাত একজন আদর্শ মুমিনের নিয়মিত আমল। নামাজে যেমন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ কাছে দোয়া করে, নামাজের বাইরেও জানা-অজানা গুনাহসমূহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যে কোনো অভাব-অভিযোগও আল্লাহ তাআলার কাছেই পেশ করে, তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে। দোয়া যেমন আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাধ্যম, দোয়া আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও ইমানও প্রকাশ করে। মুমিন বান্দার বিনয় ও অহংকারহীনতাও প্রকাশ করে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া কর, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত হতে বিমুখ তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে। (সুরা গাফির: ৬০)
অনেকে অভিযোগ করেন, আমি দোয়া করি, কিন্তু কবুল হয় না। দোয়া সব সময় কবুল হওয়া জরুরি নয়। কবুল না হলে দোয়া করা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। দোয়া যদি তাৎক্ষণিকভাবে কবুল না হয়, তবুও বান্দা দোয়ার প্রতিদান পায়। আল্লাহর কাছে কৃত দোয়া কখনও ব্যর্থ হয় না।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি এমন দোয়া করে যে দোয়াতে কোনো পাপ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে তার দোয়া কবুল করে নেন; হয়তো যে দোয়া সে করেছে তা ওইভাবেই কবুল করেন, তার দোয়ার প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন অথবা এ দোয়ার মাধ্যমে তার ওপর আগত কোনো বিপদ তিনি দূর করে দেন।
এ কথা শুনে সাহাবিরা বললেন, আমরা তাহলে অধিক পরিমাণে দোয়া করতে থাকবো। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা যত বেশি দোয়াই করবে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি কবুল করতে পারেন। (বুখারি ফিল আদাবিল মুফরাদ)
সুতরাং দোয়া নির্দিষ্টভাবে কবুল না হলেও দোয়া করে যেতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল করে দেখা দরকার দোয়া কবুল হওয়োর রোকন ও শর্তগুলো আপনার দোয়ায় আছে কি না। আপনি সঠিকভাবে চাইতে পারছেন কি না। অনেক সময় দোয়া কবুল হয় না যথাযথভাবে না চাওয়ার কারণে।
এখানে আমরা আল্লাহর কাছে যথাযথভাবে দোয়া করার পদ্ধতি তুলে ধরলাম।
দোয়ার রোকনসমূহ
দোয়ার রোকন দোয়ার মূল ভিত্তি বা আত্মাস্বরূপ, যা না থাকলে দোয়া আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্যতা পায় না।
১. ইখলাস বা অন্তরের গভীর একাগ্রতা
দোয়ার প্রধান ও প্রথম রোকন হলো ইখলাস বা সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে আল্লাহকে ডাকা। উদাসীন মনে কেবল মুখের বুলি আওড়ালে তা কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারায় স্পষ্ট করে বলেছেন, আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বলো, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোনো প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিই। (সুরা বাকারা: ১৮৬)
২. সংশয়হীন দৃঢ় বিশ্বাস
কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব কিংবা পরীক্ষা করার মনোভাব নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তোলা যাবে না। কবুল হওয়ার পূর্ণ বিশ্বাস রেখে দোয়া করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা দোয়া কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ কোনো উদাসীন অন্তরের দোয়া গ্রহণ করেন না। (সুনানে তিরমিজি)
৩. আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা
আল্লাহ তাআলা আমার ভালো চান এবং তিনি অবশ্যই আমার কল্যাণকর আর্জি পূরণ করবেন এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করতে হবে। হাদিসে কুদসিতে নবীজি (সা.) আল্লাহর বাণী উদ্ধৃত করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা করে, আমি তার সাথে তেমনই আচরণ করি। (সহিহ বুখারি)
দোয়া কবুল হওয়ার শর্তসমূহ
এ ছাড়া দোয়া কবুল হওয়ার কিছু শর্তও রয়েছে। দোয়ার রোকন যথাযথভাবে পূরণ করার পাশাপাশি শর্তগুলো পূরণ করলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
১. ফলাফলের জন্য তাড়াহুড়ো না করা
অনেককে বলতে শোনা যায়, 'এত দোয়া করলাম, কিন্তু কাজ তো হলো না!' এ জাতীয় অধৈর্য মনোভাব প্রকাশ করা দোয়া কবুলের বড় বাধা। নবীজি (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত তাড়াহুড়ো না করে, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। (সহিহ বুখারি)
২. অন্যায় ও পাপ কাজের জন্য দোয়া না করা
দোয়ার বিষয়বস্তু হতে হবে ইতিবাচক ও শরিয়তসম্মত। কোনো গুনাহের কাজ, অন্যায় সুবিধা লাভ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করলে তা কখনোই কবুল হয় না। (সহিহ মুসলিম)
৩. উপার্জন ও খাবার হালাল হওয়া
দোয়া কবুলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো হালাল রিজিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক দীর্ঘ সফরকারী মানুষের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যার চুল উস্কোখুস্কো, ধূলিমলিন চেহারা, যে আসমানের দিকে হাত তুলে আকুল হয়ে 'ইয়া রব, ইয়া রব' বলে ডাকে; কিন্তু তার খাবার, পানীয় ও পোশাক সবই হারাম উপায়ে উপার্জিত। এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (সহিহ মুসলিম)
৪. দোয়ার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন না করা
প্রাকৃতিক নিয়ম বা বাস্তবের অবাস্তব কিছু চাওয়া সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। যেমন কোনো পুরুষের নারী হওয়ার আকুতি কিংবা নবী হওয়ার জন্য প্রার্থনা করা। সুরা আরাফে আল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো অনুনয়-বিনয় করে ও চুপিসারে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ: ৫৫)
ওএফএফ
What's Your Reaction?