যেভাবে নেতা নির্বাচন করতেন মহানবী (সা.)
নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা যে কোনো সংগঠনের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর। আজ যখন নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা বিতর্ক, প্রতিযোগিতা ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, তখন মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হচ্ছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি কেমন মানুষকে দায়িত্ব দিতেন? কাদের হাতে অর্পণ করতেন রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজ পরিচালনার ভার? তাঁর জীবন ও হাদিস আমাদের সামনে স্পষ্ট এক মানদণ্ড তুলে ধরে। হাদিসে এসেছে, নেতা নির্বাচনে মহানবী (সা.) কেবল যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই মনোনীত করতেন। তিনি স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দিতেন না। ক্ষমতা বা পদের জন্য যারা লালায়িত হতো, তাদের ব্যাপারেও তিনি সতর্ক ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,‘আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে; অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।’ (মুসলিম : ১৮২৪) এর পেছনে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তোমাকে তা দেওয়া হয়, তাহলে তার সকল দায়িত্বভার তো
নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা যে কোনো সংগঠনের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর। আজ যখন নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা বিতর্ক, প্রতিযোগিতা ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, তখন মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হচ্ছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
তিনি কেমন মানুষকে দায়িত্ব দিতেন? কাদের হাতে অর্পণ করতেন রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজ পরিচালনার ভার? তাঁর জীবন ও হাদিস আমাদের সামনে স্পষ্ট এক মানদণ্ড তুলে ধরে।
হাদিসে এসেছে, নেতা নির্বাচনে মহানবী (সা.) কেবল যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই মনোনীত করতেন। তিনি স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দিতেন না। ক্ষমতা বা পদের জন্য যারা লালায়িত হতো, তাদের ব্যাপারেও তিনি সতর্ক ছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,‘আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে; অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।’ (মুসলিম : ১৮২৪)
এর পেছনে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তোমাকে তা দেওয়া হয়, তাহলে তার সকল দায়িত্বভার তোমার ওপরই অর্পিত হবে। আর যদি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সহযোগিতা করা হবে।’ (বোখারি: ৭১৪৭ ও মুসলিম : ১৬৫২)
অর্থাৎ নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং যোগ্যতা ও আস্থার ভিত্তিতে অর্পিত একটি দায়িত্ব। নবীজি (সা.)-এর দৃষ্টিতে নেতৃত্ব ছিল আল্লাহ ও মুসলিম উম্মাহর আমানত। ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সম্পদ—সবই আমানত, যা আল্লাহভীরু ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের হাতে ন্যস্ত থাকতে হবে।
কেউ ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা অপব্যবহার করার অধিকার রাখে না। যাদের হাতে এ আমানত সোপর্দ করা হবে, তারা এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,‘আমানত বহনের যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে আমানত সোপর্দ করার জন্য আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।’ (সুরা নিসা : ৫৮)
নবীজি (সা.) আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেতা হবেন জনগণের সেবক (মিশকাত আল মাসাবিহ : ৩,৯২৫)। তিনি তাঁর সাহাবিদের এমনভাবেই গড়ে তুলেছিলেন, যাতে তারা নিজেদের শাসক নয়, বরং মানুষের খাদেম হিসেবে ভাবেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের জনগণের সেবকের ভূমিকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর এই নীতিমালা আজও মুসলিম সমাজের জন্য দিকনির্দেশনা। নেতৃত্ব মানে ক্ষমতার প্রদর্শন নয়; বরং আমানতের সঠিক হেফাজত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ। তাঁর শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যোগ্যতা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সম্ভব নয়।
What's Your Reaction?