প্রতিটি কাজের অনুরূপ একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রেও এমন বিষয় রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী করিম (সা.)-এর পেছনে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে বৎস! নিশ্চয় আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শেখাব। শুনে রাখো, তুমি আল্লাহর বিধানাবলির হেফাজত করবে, তাহলে আল্লাহও তোমাকে হেফাজত করবেন। আল্লাহর বিধান আদায় করবে, তুমি আল্লাহকে তোমার সামনেই পাবে। আর যখন তুমি কোনো কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবু তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনই তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং দপ্তরসমূহ শুকিয়ে গেছে।’ (তিরমিজি : ২৫১৬)। এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ যেমন কাজ করবে তেমন ফল পাবে। কখনো কখনো আল্লাহ মানুষের কাজের প্রতিদান অনুরূপ কাজের মাধ্যমে দেন। এমন কিছু আমলের বিবরণ তুলে ধরা হলো।
আল্লাহকে সাহায্য করা: পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের কদম (অবস্থান) দৃঢ় করবেন।’ (সুরা মুহাম্মদ : ৭)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহকে সাহায্য করবে আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান ও পরাক্রমশালী।’ (সুরা হজ : ৪০)
আল্লাহকে স্মরণ করা : আল্লাহ বলেন, ‘আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)
অন্যের দোষ গোপন করা : মানুষের দোষচর্চা ইসলামে নিষিদ্ধ। কেউ যদি অন্যের দোষ গোপন করে তবে আল্লাহ তার দোষও গোপন করবেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (মুসলিম : ৭০২৮)
মসজিদ নির্মাণ করা : মসজিদ আল্লাহর ঘর। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পৃথিবীতে তার ঘর মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য ঘর নির্মাণ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ তৈরি করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি তৈরি করে দেবেন।’ (মুসলিম : ৭৬৬১)
আল্লাহর বিধান সংরক্ষণ করা : আল্লাহর বিধান সংরক্ষণের অর্থ হলো, তা মান্য করে চলা। আল্লাহ যা করতে বলেছেন তা করা এবং করতে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান মেনে চলবে, আল্লাহ তাকে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন। আলোচ্য হাদিসে যেমনটি বলা হয়েছে। এ ছাড়া পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো পুরুষ বা কোনো নারী যদি ভালো কাজ করে, আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব।’ (সুরা নাহল : ৯৭)
সৃষ্টির প্রতি দয়া করা : যে ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করবে, আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্য থেকে দয়াশীলদের প্রতি দয়া করেন।’ (বুখারি : ৭৪৪৮)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া করো, যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪৩)
লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক