যেসব অভ্যাস রপ্ত করলে ফুরফুরে থাকবে মনমেজাজ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ? দিনের যেকোনো সময় অকারণে মনমেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে, কোনো কিছুতেই ভালো লাগছে না? অথচ এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের প্রভাব এর অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্টিসলকে অনেক সময় ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। মানসিক চাপের সময় শরীরে এর মাত্রা বেড়ে যায়। তবে কর্টিসল শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনো হরমোন নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। সমস্যা তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের কারণে কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে থাকে। মানসিক চাপ কমাতে প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপকারী হতে পারে। সকালে উঠে সন্তানকে জড়িয়ে ধরা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশে শান্তভাবে বসে থাকাও মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। মনের কথা লিখে রাখুন অনেক সময় মনের ভেতরে জমে থাকা অপ্রকাশিত অনুভূতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই মন খারাপ হলে নিজের অনুভূতিগুলো লিখে রাখতে পারেন।

যেসব অভ্যাস রপ্ত করলে ফুরফুরে থাকবে মনমেজাজ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই মন খারাপ? দিনের যেকোনো সময় অকারণে মনমেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে, কোনো কিছুতেই ভালো লাগছে না? অথচ এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের প্রভাব এর অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনও ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্টিসলকে অনেক সময় ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। মানসিক চাপের সময় শরীরে এর মাত্রা বেড়ে যায়। তবে কর্টিসল শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোনো হরমোন নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। সমস্যা তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের কারণে কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক ছন্দের বাইরে থাকে।

মানসিক চাপ কমাতে প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপকারী হতে পারে। সকালে উঠে সন্তানকে জড়িয়ে ধরা, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো কিংবা বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশে শান্তভাবে বসে থাকাও মন ভালো করতে সাহায্য করতে পারে।

মনের কথা লিখে রাখুন

অনেক সময় মনের ভেতরে জমে থাকা অপ্রকাশিত অনুভূতি মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই মন খারাপ হলে নিজের অনুভূতিগুলো লিখে রাখতে পারেন। চাইলে বিশ্বস্ত কোনো মানুষের সঙ্গে মনের কথা খুলে বলুন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমতে পারে এবং মনও হালকা লাগে।

নিজের ভালো লাগার কাজ করুন

প্রতিদিনের ব্যস্ততায় ব্যক্তিগত শখ ও পছন্দের কাজগুলো অনেক সময় হারিয়ে যায়। অথচ মানসিক সুস্থতার জন্য আনন্দদায়ক কাজের গুরুত্ব রয়েছে। রান্না, বাগানের পরিচর্যা, ছবি আঁকা, গান শোনা, গান গাওয়া বা নাচ—যে কাজটি আপনার ভালো লাগে, সেটির জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখুন।

শরীরচর্চায় প্রকৃতির সান্নিধ্য নিন

ঘরে বসে ব্যায়াম করতে অনেকেরই একঘেয়েমি লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাইরে হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা পার্কে কিছুটা সময় কাটানোর অভ্যাস করতে পারেন। বিশেষ করে সকালে খোলা বাতাসে হাঁটাহাঁটি করলে শরীরচর্চার পাশাপাশি মনও সতেজ হতে পারে।

প্রকৃতির সান্নিধ্য, পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ঘুম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তবে শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলেই কর্টিসল দ্রুত কমে যাবে—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

খাবারের দিকেও নজর দিন

মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার, যেমন লুচি বা কচুরি, নিয়মিত খাওয়া ভালো অভ্যাস নয়। একইভাবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণও কিছু মানুষের উদ্বেগ বা অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

এর পরিবর্তে সুষম খাবারের ওপর গুরুত্ব দিন। খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, কলা, শাকসবজি ও টাটকা সালাদের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন। ডিম, মাছ ও কুমড়ার বীজের মতো ট্রিপটোফ্যানসমৃদ্ধ খাবারও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। শরীরে সেরোটোনিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ট্রিপটোফ্যান ভূমিকা রাখে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, মন খারাপ বা মানসিক চাপ সবসময় শুধু কর্টিসল বেড়ে যাওয়ার কারণে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকা, কোনো কাজে আগ্রহ না পাওয়া, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন কিংবা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow