যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীর বিরতি চাইছে
ব্যায়ামের পর পা কাঁপতে থাকা বা সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া - এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই বুঝে যান যে শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার। সাধারণত এটি হয় পেশিতে হওয়া সূক্ষ্ম ক্ষতের কারণে, যাকে আমরা মাংসপেশির ব্যথা বা soreness বলে জানি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যথাই নয়, শরীর ও মন বিশ্রাম চাইছে এমন আরও অনেক ইঙ্গিত রয়েছে, যেগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। অনেকেই মনে করেন, ব্যথা উপেক্ষা করে নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া মানেই শক্তিশালী হওয়া। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় না দিলে শরীর শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতও হয় না। এতে দীর্ঘমেয়াদে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর সঙ্গে মানসিক চাপ যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর নিজেই আমাদের জানিয়ে দেয় কখন একটু ধীরে চলা দরকার। নিচে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো দেখলে বুঝতে হবে, এবার বিশ্রামের সময় এসেছে। বিশ্রাম অবস্থাতেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রাম অবস্থায় হার্ট রেট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বিটের মধ্যে থাকে। তবে
ব্যায়ামের পর পা কাঁপতে থাকা বা সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া - এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই বুঝে যান যে শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়া দরকার। সাধারণত এটি হয় পেশিতে হওয়া সূক্ষ্ম ক্ষতের কারণে, যাকে আমরা মাংসপেশির ব্যথা বা soreness বলে জানি।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যথাই নয়, শরীর ও মন বিশ্রাম চাইছে এমন আরও অনেক ইঙ্গিত রয়েছে, যেগুলো আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি।
অনেকেই মনে করেন, ব্যথা উপেক্ষা করে নিয়মিত ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া মানেই শক্তিশালী হওয়া। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় না দিলে শরীর শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না, ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতও হয় না। এতে দীর্ঘমেয়াদে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, কর্মক্ষমতা কমে যায়। এর সঙ্গে মানসিক চাপ যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর নিজেই আমাদের জানিয়ে দেয় কখন একটু ধীরে চলা দরকার। নিচে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো দেখলে বুঝতে হবে, এবার বিশ্রামের সময় এসেছে।
বিশ্রাম অবস্থাতেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বিশ্রাম অবস্থায় হার্ট রেট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বিটের মধ্যে থাকে। তবে নিয়মিত ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা কম হতে পারে।
যদি লক্ষ্য করেন, কোনো কাজ না করেও আপনার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ বা তার বেশি বিট বাড়তি থাকছে, তাহলে সেটি সতর্কবার্তা। এর মানে, শরীর দৈনন্দিন কাজ করতেই অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না।
ব্যায়াম আগের চেয়ে বেশি কঠিন মনে হওয়া
যে ব্যায়াম বা দৌড় আগে সহজে করতে পারতেন, হঠাৎ তা খুব কষ্টকর লাগছে - এটিও অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের লক্ষণ। এর কারণ শুধু পেশি নয়, স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। স্নায়ুতন্ত্র ঠিকমতো সাড়া দিতে না পারলে গতি কমে যায়, ওজন তুলতে কষ্ট হয় এবং শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
ঘুমের সমস্যা
অতিরিক্ত ব্যায়াম শরীর ও মনকে সব সময় ‘সতর্ক অবস্থায়’ রাখে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘনঘন ঘুম ভেঙে যায় বা ঘুমের সময় কমে যায়। অথচ ভালো ঘুমই হলো শরীর পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ব্যায়ামের সুফল পাওয়া যায় না।
ব্যায়ামের কথা ভাবলেই অনীহা
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ক্লান্তিও অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফল হতে পারে। যদি দেখেন, নিয়মিত ব্যায়াম করতে ভালো লাগলেও হঠাৎ করে আগ্রহ কমে গেছে বা ব্যায়ামের কথা ভাবলেই বিরক্ত লাগছে, তাহলে সেটি বিশ্রামের সংকেত। জোর করে ব্যায়াম করলে কর্মক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে।
হঠাৎ হঠাৎ পেশিতে টান ধরা
একই ধরনের পেশি বারবার ব্যবহার করলে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিলে পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প হতে পারে। বিশ্রামের অভাবে পেশি ঠিকমতো পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না এবং বর্জ্য পদার্থ জমে যায়। এর ফলেই এমন অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়।
কী করবেন
এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে কয়েকদিন পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া বা হালকা ব্যায়ামে অভ্যস্ত হওয়া ভালো। যোগব্যায়াম, হালকা হাঁটা, স্ট্রেচিং বা উষ্ণ পানিতে গোসল শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে।
যদি একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে ব্যায়ামের মাত্রা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেওয়া জরুরি, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ডি-লোড সপ্তাহ’ বলেন। এতে ওজন, সময় বা দূরত্ব কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবুও সমস্যা থেকে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ শরীর গড়তে শুধু নিয়মিত ব্যায়ামই নয়, পর্যাপ্ত বিশ্রামও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝতে শেখা মানেই সচেতন থাকা। সত্যিকারের ফিট মানুষ তার সীমা জানে - কখন নিজেকে চাপ দিতে হবে আর কখন একটু থামতে হবে। সময়মতো বিশ্রাম নিলে শুধু চোটের ঝুঁকি কমে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যায়ামের সুফলও অনেক বেশি পাওয়া যায়।
সূত্র : Nike
What's Your Reaction?