যৌতুক না পেয়ে ৯ মাসের শিশুকন্যাকে আছাড় দিলেন বাবা
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নয় মাসের নিজ শিশুকন্যাকে মেঝেতে আছাড় মেরে ও কামড়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ নির্মম ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা রিনা বেগম (২০)। মামলার আসামিরা হলেন- ভুক্তভোগীর স্বামী সোহেল মোল্লা (২৪) ও তার সহযোগীরা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রিনা বেগমের (২০) সঙ্গে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঠালিয়া এলাকার সোহেল মোল্লার (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নয় মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোহেল মিয়া তার স্ত্রী রিনা বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে রিনা বেগম অভিযোগ করেন, স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৫ আগস্ট নয় মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। পরদিন ৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আড়াইহাজার পৌরসভার কামরানীরচর মধ্যপাড়া এলাকায় তার বাবার বাড়িতে যান সোহেল। অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল সেখানে গিয়ে শিশুটিকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রিনা বেগম ও
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নয় মাসের নিজ শিশুকন্যাকে মেঝেতে আছাড় মেরে ও কামড়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ নির্মম ঘটনায় আড়াইহাজার থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা রিনা বেগম (২০)।
মামলার আসামিরা হলেন- ভুক্তভোগীর স্বামী সোহেল মোল্লা (২৪) ও তার সহযোগীরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রিনা বেগমের (২০) সঙ্গে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঠালিয়া এলাকার সোহেল মোল্লার (২৪) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নয় মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোহেল মিয়া তার স্ত্রী রিনা বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে রিনা বেগম অভিযোগ করেন, স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৫ আগস্ট নয় মাস বয়সী শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। পরদিন ৭ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আড়াইহাজার পৌরসভার কামরানীরচর মধ্যপাড়া এলাকায় তার বাবার বাড়িতে যান সোহেল।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল সেখানে গিয়ে শিশুটিকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রিনা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে খাটের ওপর থেকে তুলে মেঝেতে আছাড় মারেন। এতে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, এরপর সোহেল শিশুটির বাম পায়ের ঊরুতে কামড় দিয়ে জখম করেন। এ সময় রিনা বেগম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে সোহেল তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহত শিশুটিকে দ্রুত আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে শিশুটিকে সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রিনা বেগমের অভিযোগ, যৌতুকের বিষয়কে কেন্দ্র করেই স্বামীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সর্বশেষ তার শিশুকন্যাকেও মারধর করা হয়।
শিশুটির নানা-নানি বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে আছাড় মারার পরও ক্ষিপ্ত ছিলেন। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে থামান। তাদের দাবি, স্থানীয়রা সময়মতো এগিয়ে না এলে শিশুটির প্রাণহানিও ঘটতে পারত।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কারো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির সঙ্গে যৌতুক সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ রয়েছে।
What's Your Reaction?