রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় গুলিতে যুবক নিহত: ফেসবুকে এমপি বাবুলের কড়া বার্তা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই পাড়ের ছয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মুন্সী (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয়েছে দক্ষিণ পাড়ের ১০ থেকে ১৫টি দোকানপাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এ ঘটনার পর ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন। বুধবার (১ জুলাই) সকালে দেওয়া সেই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, আত্মীয়, বন্ধু বুঝি না। কাইজ্জা, ফ্যাসাদ, খুন, খারাবি বা অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে। এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স। সুতরাং এই বিষয়ে কেউ কোনো তদবির নিয়ে আসবেন না দয়া করে।  প্রসঙ্গ: আমাদের নির্বাচনী এলাকা।’ এমপির এই বক্তব্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক নেতার অনুসারীরা এ সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে শু

রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় গুলিতে যুবক নিহত: ফেসবুকে এমপি বাবুলের কড়া বার্তা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমার নদের দুই পাড়ের ছয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মুন্সী (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙচুর করা হয়েছে দক্ষিণ পাড়ের ১০ থেকে ১৫টি দোকানপাট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।

এ ঘটনার পর ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন। বুধবার (১ জুলাই) সকালে দেওয়া সেই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, আত্মীয়, বন্ধু বুঝি না। কাইজ্জা, ফ্যাসাদ, খুন, খারাবি বা অপরাধী যেই হোক, শাস্তি পেতেই হবে। এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স। সুতরাং এই বিষয়ে কেউ কোনো তদবির নিয়ে আসবেন না দয়া করে। 

প্রসঙ্গ: আমাদের নির্বাচনী এলাকা।’

এমপির এই বক্তব্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক নেতার অনুসারীরা এ সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে শুরুতেই কঠোর অবস্থান জানিয়ে এমপি বাবুল আলোচনায় আসেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের সঙ্গে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের ইসমাইল মুন্সীর ভাগনে, সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সেই ঘটনার জের ধরে ইসমাইল মুন্সীর আরেক ভাগনে শরিফুলের সঙ্গে পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের দুই কিশোরের নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার পর পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে পাড়ার টাননে উভয় পক্ষের সঙ্গে আশপাশের আরও চার গ্রামের মানুষ জড়িয়ে পড়ে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল, সরকি, টেঁটা এবং ইটপাটকেল নিয়ে দুই পক্ষ মহাসড়কে অবস্থান নেয়। চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্ধকার ও টিপটিপ বৃষ্টির মধ্যেও থামেনি হামলা। এতে গুলিবিদ্ধ হন কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন বাবুর্চির ছেলে সুমন মুন্সী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। একপর্যায়ে হাসামদিয়া গ্রামের লোকজন দক্ষিণ পাড়ে ঢুকে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালায়।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা থেকেই ভাঙ্গা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে পুলিশ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এক যুবকের ঢাকায় মৃত্যুর খবর শুনেছি। তবে এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি। মহাসড়কে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow