রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া: অতঃপর জীবনসঙ্গী দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন। নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে তার পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গড়ালো বিবাহবন্ধনে। ইমন রাকসু নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তবে ভালোবাসার যুদ্ধে তিনি সফল। রাকসু কেন্দ্র করে প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে, আর সেই পরিচয়ই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সম্পর্কে। রাকসু ঘিরে শুরু হওয়া সেই পথচলাই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তে। চার মাসের প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা। জানা গেছে, ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বাগেরহাটে। প্রেমের সূত্রপ

রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া: অতঃপর জীবনসঙ্গী দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ছাত্র অধিকার পরিষদ মনোনীত প্যানেল থেকে সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন রিদুয়ানুল হক ইমন। নির্বাচনি প্রচারণায় গিয়ে তার পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে। এরপর বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক গড়ালো বিবাহবন্ধনে।

ইমন রাকসু নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তবে ভালোবাসার যুদ্ধে তিনি সফল। রাকসু কেন্দ্র করে প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে পরিচয় হয় মুসলিমার সঙ্গে, আর সেই পরিচয়ই ধীরে ধীরে রূপ নেয় সম্পর্কে। রাকসু ঘিরে শুরু হওয়া সেই পথচলাই শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দিয়েছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তে।

চার মাসের প্রেমের পরিণতি হিসেবে গত ৭ এপ্রিল উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। অন্যদিকে মুসলিমা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বাগেরহাটে।

প্রেমের সূত্রপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমন বলেন, রাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে আমি মমতাজ উদ্দীন কলাভবনের সামনে প্রচারণা করতে যাই। তখন প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে। তার সঙ্গে থাকা বান্ধবীদের মধ্যে একজনকে আমি চিনতাম। কিছুদিন পর সে আমাকে ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠায়। এরপর আমি তাকে মেসেজ দিই এবং টুকটাক কথা হয়। কিছুদিন পর জানতে পারি, সে শহরের তালাইমারি এলাকায় থাকে। এরপর তাকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাই। এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে চা খাওয়া ও আড্ডার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রাকসুর ভোট চাইতে গিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া: অতঃপর জীবনসঙ্গী দুই শিক্ষার্থী

ইমন বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরে বিয়ে করার। কিন্তু বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে রাজশাহীতে উভয় পরিবারের সদস্যরা এসে কথা বলেন। এরপর ৭ এপ্রিল বিনোদপুর কাজী অফিসে আমাদের বিয়ে হয়। পরে বিয়ের অনুষ্ঠান করে ১৭ এপ্রিল সবাইকে জানানো হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইমন জানান, তারা একসঙ্গে ভালো কিছু করতে চান। পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং দেশে বা বিদেশে ভালো চাকরি করার ইচ্ছা রয়েছে তাদের।

বিয়ের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুসলিমা বলেন, সবকিছু যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে গেলো। কিন্তু অনুভূতিটা খুবই আন্তরিক ও গভীর। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা— সব মিলিয়ে ইমনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটা হওয়ায় আমরা আরও স্বস্তি পেয়েছি। এখন আমাদের লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একসঙ্গে ভালো কিছু করা এবং সুন্দরভাবে জীবনটা গুছিয়ে নেওয়া।

মনির হোসেন মাহিন/এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow