রাজধানীতে ‘মিনি ল্যাবেই’ তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর মাদক

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গোপন ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে ভয়ংকর ও অপ্রচলিত মাদক তৈরি করছে একাধিক চক্র। সম্প্রতি ধারাবাহিক কয়েকটি অভিযানে কেটামিন, কুশ, ইয়াবা ও ভেজাল মদ তৈরির এমন অন্তত চারটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব চক্র আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে মাদক সরবরাহ করছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ভয়ংকর মাদক তৈরির একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তরল কেটামিন বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করা হচ্ছিল। অভিযানে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কেটামিন ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত কেটামিন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে চক্রটি সেই কেটামিনকে কোকেন সদৃশ পাউডারে পরিণত করে মাদক হিসেবে বাজারজাত করছিল। তারা ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিত এবং ক্রিপ্টোকারেন্স

রাজধানীতে ‘মিনি ল্যাবেই’ তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর মাদক
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গোপন ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে ভয়ংকর ও অপ্রচলিত মাদক তৈরি করছে একাধিক চক্র। সম্প্রতি ধারাবাহিক কয়েকটি অভিযানে কেটামিন, কুশ, ইয়াবা ও ভেজাল মদ তৈরির এমন অন্তত চারটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব চক্র আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে মাদক সরবরাহ করছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ভয়ংকর মাদক তৈরির একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তরল কেটামিন বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করা হচ্ছিল। অভিযানে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কেটামিন ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত কেটামিন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে চক্রটি সেই কেটামিনকে কোকেন সদৃশ পাউডারে পরিণত করে মাদক হিসেবে বাজারজাত করছিল। তারা ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিত এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন করত। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো এসব মাদক। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক মাসে রাজধানীতে অপ্রচলিত মাদক তৈরির একাধিক ল্যাবের সন্ধান মিলেছে। ইয়াবার সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে নতুন ধরনের ইয়াবা তৈরির কারখানা যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি কুশ চাষ ও ভেজাল মদ উৎপাদনের ল্যাবও শনাক্ত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির একটি কারখানা উদ্ধার করে ডিএনসি। সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করার সময় ট্যাবলেট তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইয়াবা উৎপাদনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে ৫০০ ইয়াবা সংগ্রহ করে তা গুঁড়া করে বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। এসব ইয়াবা ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রি করা হতো। অন্যদিকে রাজধানীর ওয়ারীতে একটি বাসায় ‘কুশ’ নামে পরিচিত উন্নত জাতের মারিজুয়ানা চাষের ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তৌসিফ হাসান নামে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসি জানায়, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি ঢাকার বাসায় স্থাপিত ল্যাব পরিচালনা করতেন। সেখানে বিশেষ আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে কুশ চাষ করা হতো। ডিএনসির অভিযানে ওই বাসা থেকে কুশগাছ, কুশের বীজ, ক্যানাবিনয়েড রেজিন, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তৌসিফের সহযোগী হিসেবে এক নারী ও বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় পৃথক অভিযানে ভেজাল মদ তৈরির দুটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে বিদেশি মদের বোতলে রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ, কেমিক্যাল, বিয়ার ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা এখন আরও সংগঠিতভাবে মাদক উৎপাদন ও পাচারে জড়িত হচ্ছে। বিদেশি চক্রও এতে সম্পৃক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow