রাজধানীতে হঠাৎ সয়াবিন তেলের সংকট

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে সয়াবিন তেল কিনতে শুরু করেছেন। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে এখনো সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করা হলেও সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা আগাম বেশি পরিমাণে তেল কিনছেন। বিক্রেতাদের মতে, এ ধরনের অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই বাজারে তেলের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে। রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানেই পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল সীমিত পরিমাণে মিললেও অনেক দোকানে সেটিও অনুপস্থিত। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটারের একটি বোতল। তবে আশপাশের কয়েকটি দোকান ও বাজার ঘুরেও তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে বাধ্য হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তিনি ড

রাজধানীতে হঠাৎ সয়াবিন তেলের সংকট

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণে সয়াবিন তেল কিনতে শুরু করেছেন। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।

খুচরা বাজারে এখনো সরকার নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করা হলেও সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় অনেক ক্রেতা আগাম বেশি পরিমাণে তেল কিনছেন। বিক্রেতাদের মতে, এ ধরনের অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণেই বাজারে তেলের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, শাহজাদপুর, দক্ষিণ বনশ্রী ও মেরাদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানেই পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল সীমিত পরিমাণে মিললেও অনেক দোকানে সেটিও অনুপস্থিত।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, তার প্রয়োজন ছিল দুই লিটারের একটি বোতল। তবে আশপাশের কয়েকটি দোকান ও বাজার ঘুরেও তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তিনি ডিলারের কাছ থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কার্টন তেল আনতেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে সেই সরবরাহ কমে দুই থেকে তিন কার্টনে নেমে এসেছে। এর ফলে বাজারে বোতলজাত তেলের সংকট তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তেল সরবরাহ তুলনামূলক কম। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা আশঙ্কা থেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। ফলে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

কারওয়ান বাজারে কয়েকটি ডিলারের দোকানে বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা সেখানে ভিড় করছেন। তবে অনেকেই চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। মগবাজার এলাকার বিক্রেতা মো. পলাশ গণমাধ্যমে বলেন, আগে যেখানে চার কার্টন তেল নিতেন, এখন ডিলার এক কার্টনের বেশি দিচ্ছে না।

বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডিলার পর্যায়েও দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা থাকলেও আগে ডিলারের কাছ থেকে এটি প্রায় ৯৩০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন অনেক দোকানদারকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা কমে গেছে।

এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে গত চার দিনে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা বেড়ে ১৯৮–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে কেজিতে প্রায় ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে।

তবে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত তেল সরবরাহ করছেন এবং উৎপাদনেও কোনো ঘাটতি নেই। রমজানকে সামনে রেখে অতিরিক্ত তেল আমদানিও করা হয়েছে।

সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা গণমাধ্যমে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমায়নি। তবে এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। পাশাপাশি রমজানে চাহিদা বৃদ্ধি এবং কিছু মানুষের মজুদের কারণেও বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ–সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow