রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদল: কমিটি গঠন ঘিরে জল্পনা, যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে যোগ্যদের হাতে নতুন কমিটি উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, তাই রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলকেও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, যারা দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের দিয়ে যেন জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হয়।সজীব রাজা একজন নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারণে তার একটি আলাদা ইমেজ রয়েছে।২০১৭ সালে তরুণ বয়সে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সজীব রাজার ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকে মেরে পাংশা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে ফেলে রাখা হয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেকেই প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই।এটি কোনো একক ঘটনা নয়। জানা যায়, অন্তত পাঁচবার হামলার শিক

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদল: কমিটি গঠন ঘিরে জল্পনা, যোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে যোগ্যদের হাতে নতুন কমিটি উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, তাই রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলকেও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, যারা দলের দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের দিয়ে যেন জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হয়।

সজীব রাজা একজন নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কারণে তার একটি আলাদা ইমেজ রয়েছে।

২০১৭ সালে তরুণ বয়সে শুধু ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সজীব রাজার ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকে মেরে পাংশা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে ফেলে রাখা হয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেকেই প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই।

এটি কোনো একক ঘটনা নয়। জানা যায়, অন্তত পাঁচবার হামলার শিকার হয়েছেন এই নেতা। এর পাশাপাশি গুম, কারাবাস এবং একাধিক মামলার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও তাকে যেতে হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকায় দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে অন্তত তিনটি মামলা হয়েছিল।

২০২৩ সালের ২৬ জুলাই ঢাকার মিরপুর ৬০ ফিট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ভাঙচুর মামলায় তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ১৯ দিন কারাভোগ করেন। একই বছরের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডির রায়েরবাজার মসজিদের সামনে থেকে হাজারীবাগ থানা পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে একটি পেন্ডিং মামলায় কারাগারে প্রেরণ করে।

পরবর্তীতে তিন দিন পর তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ‘শোন অ্যারেস্ট’সহ প্রায় ১০০ দিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারাগারে বন্দি অবস্থায় তিনি ও তার সহযোদ্ধারা প্রতিটি মুহূর্ত গুনতেন মুক্তির আশায়। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে রাজপথে সক্রিয় কর্মীর সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। অনেকেই সাহস করে সামনে আসতে পারেননি। সেই কঠিন সময়ে সজীব রাজা নিজের অবস্থান ধরে রেখে সংগঠনের জন্য কাজ করে গেছেন বলে দাবি করছেন সহকর্মীরা।

বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, জেলায় তার মতো ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক খুব কমই রয়েছেন।

তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে আশঙ্কাও রয়েছে, যদি স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক প্রভাবের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে দলটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। এতে হতাশ হবে তরুণ প্রজন্ম এবং দুর্বল হয়ে পড়তে পারে সংগঠনের শক্তি।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন, দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা এমন কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেবেন না এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

সবশেষে তাদের একটাই দাবি, যার যা প্রাপ্য, তাকে সেই সম্মান দেওয়া হোক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow