রাজশাহীর বাজারে মৌসুমের প্রথম ‘গুটি’ আম

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মধুমাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম আম ‘গুটি’ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ।  জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকেই গাছ থেকে নামানো শুরু হয় এ মৌসুমের প্রথম আম, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এবারের আম মৌসুম। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন বাগানে দেখা যায় কৃষকদের ব্যস্ততা। গাছ থেকে সতর্কতার সঙ্গে পেড়ে আনা হচ্ছে পাকা ‘গুটি’ আম, যা দ্রুতই পৌঁছে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে। কৃষকদের কাছে এই সময়টি শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নয়, বরং এক ধরনের মৌসুমি উৎসবেরও প্রতীক। স্থানীয় আমচাষীরা জানান, চলতি বছর আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। পর্যাপ্ত রোদ, সময়মতো বৃষ্টি এবং রোগবালাই কম থাকায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপের চেয়ে ভালো। তবে তাদের মূল প্রত্যাশা— বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা। জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে বিভিন্ন জাতের আম। এতে বাজারে সরবরাহ ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ভোক্তারাও পাবেন পরিপক্ব ও নিরাপদ ফল। সময়সূচি অনুযায়ী— গুটি (১৫ মে), গোপালভোগ (২২ মে), লক্ষ্মণভোগ ও রাণীপছন্

রাজশাহীর বাজারে মৌসুমের প্রথম ‘গুটি’ আম

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মধুমাস জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনেই আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে শুরু হয়েছে মৌসুমের প্রথম আম ‘গুটি’ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। 

জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকেই গাছ থেকে নামানো শুরু হয় এ মৌসুমের প্রথম আম, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এবারের আম মৌসুম।

সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন বাগানে দেখা যায় কৃষকদের ব্যস্ততা। গাছ থেকে সতর্কতার সঙ্গে পেড়ে আনা হচ্ছে পাকা ‘গুটি’ আম, যা দ্রুতই পৌঁছে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারে। কৃষকদের কাছে এই সময়টি শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নয়, বরং এক ধরনের মৌসুমি উৎসবেরও প্রতীক।

স্থানীয় আমচাষীরা জানান, চলতি বছর আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। পর্যাপ্ত রোদ, সময়মতো বৃষ্টি এবং রোগবালাই কম থাকায় ফলনও হয়েছে আশানুরূপের চেয়ে ভালো। তবে তাদের মূল প্রত্যাশা— বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা।

জেলা প্রশাসনের ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে বিভিন্ন জাতের আম। এতে বাজারে সরবরাহ ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ভোক্তারাও পাবেন পরিপক্ব ও নিরাপদ ফল।

সময়সূচি অনুযায়ী— গুটি (১৫ মে), গোপালভোগ (২২ মে), লক্ষ্মণভোগ ও রাণীপছন্দ (২৫ মে), হিমসাগর/খিরসাপাত (৩০ মে), ল্যাংড়া (১০ জুন), আম্রপালি ও ফজলি (১৫ জুন), আশ্বিনা ও বারি-৪ (৫ জুলাই), গৌড়মতি (১৫ জুলাই) এবং ইলামতি (২০ আগস্ট) বাজারে আসবে।

এছাড়া ‘কাঠিমন’ ও ‘বারি-১১’ জাতের আম সারা বছরই পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন। এ থেকে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বাজারে অপরিপক্ব বা রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো আম বিক্রি অনেকটাই কমেছে বলেও জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ভোক্তারা পাবেন নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে আম মৌসুম মানেই উৎসবের আমেজ। মৌসুমের শুরুতেই ‘গুটি’ আম বাজারে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। এখন সবার অপেক্ষা—এক এক করে আসবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু জাতের আম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow