রাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ হল কমিটি প্রকাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার ( ৪ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই কমিটি প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব স্বাক্ষরিত এসব কমিটির তালিকায় প্রত্যেকটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠনটি এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও মনে করেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্ব পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না।” বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’ এর মুখপাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্ব

রাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ হল কমিটি প্রকাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি আবাসিক হলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার ( ৪ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই কমিটি প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব স্বাক্ষরিত এসব কমিটির তালিকায় প্রত্যেকটি হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়।

তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো। ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ সংগঠনটি এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ‘অরাজকতা’ সৃষ্টি করতে চাইছে বলেও মনে করেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্ব পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না।”

বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’ এর মুখপাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “জুলাই আন্দোলনে সহস্রাধিক শহীদের রক্ত হাতে নিয়ে ছাত্রলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার প্রাসঙ্গিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। জুলাইয়ে ঘটা গণহত্যার বিচার এখনও হয়নি। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ একপ্রকার দুঃসাহসই বলা যায়। তবে বাংলাদেশের মানুষ জুলাইকে এখনও ভুলে যায়নি, তাই তাদের এসব কর্মকাণ্ড এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী একটি সংগঠনের হল কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ছাড়া যাদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা সবাই ক্যাম্পাসে চিহ্নিত অপরাধী। তারা জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার উপর সন্ত্রাসী হামলাসহ চব্বিশ পূর্ববর্তী সময়ে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, শিক্ষক লাঞ্ছনাসহ ছাত্র নির্যাতনের মত নানা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত।” 

তিনি বলেন, “এটি নিশ্চিতভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। ছাত্রলীগের অনেকেই এখনও ক্যম্পাসে বিচরণ করছে। মাদক বাণিজ্যসহ নানা রকম অপকর্মও করছে এই গ্রুপটি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের উচিত ছাত্রলীগের এসব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।”

‘নিষিদ্ধ’ কোনো সংগঠন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “অনলাইন বা ফেইসবুকে অনেকে অনেক কিছু করতে পারে। তবে প্রকাশ্যে তাদের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার সুযোগ নেই। তাদের অনলাইনকেন্দ্রিক বিষয়গুলোও আমরা গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাব। যথাযথ বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা কোনো কিছু করতে পারবে না।” 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow