রামিসা হত্যা: আদালতে দিনভর তৎপরতা, দ্রুত বিচারের পথে মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় রোববার দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। একই দিনে মামলার চার্জশিট দাখিল, আদালতের চাজশিট গ্রহণ, মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর, আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ এবং রাষ্ট্রপক্ষের দ্রুত বিচার চাওয়ার বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ দুই আসামি—সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে সকালেই ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন মোল্লা জানান, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে

রামিসা হত্যা: আদালতে দিনভর তৎপরতা, দ্রুত বিচারের পথে মামলা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় রোববার দিনভর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। একই দিনে মামলার চার্জশিট দাখিল, আদালতের চাজশিট গ্রহণ, মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর, আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ এবং রাষ্ট্রপক্ষের দ্রুত বিচার চাওয়ার বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ দুই আসামি—সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সকালেই ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন মোল্লা জানান, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে ১১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।

jagonews24আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবীরা

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাসান বলেন, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত প্রাঙ্গণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন
রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ জুন
সাতদিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু রামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৪৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাসহ আলামত গোপনের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টসহ ফরেনসিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার চায় রাষ্ট্রপক্ষ। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এখন বিচারিক পর্যায়ে দ্রুত শুনানি শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত চাইলে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন শুনানি নিয়ে মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। রাষ্ট্রপক্ষ সেই প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় এ মামলায় আসামিপক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

jagonews24ছবিতে পুলিশবেষ্টিত আসামি সোহেল রানা

এদিন দুপুরের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন ধার্য করেন।

আরও পড়ুন
বড় বোনের পিছে পিছে বের হওয়াই কাল হলো রামিসার
একটি ছোট্ট কালো স্যান্ডেল, হ্যাঁচকা টান ও রামিসা

এ মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

এরপর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সোহেল রানার ধর্ষণ ও হত্যার স্বীকারোক্তির বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।

এমডিএএ/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow