রিকশায় যাওয়ার পথে জজ বান্ধবীর কথা স্মরণ করে অভিজ্ঞতা জানালেন মাহমুদা মিতু

সংসদ অধিবেশন শেষে বাসায় ফেরার পথে বান্ধবীর কথা স্মরণ করে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। ওই পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো। রাত ৭টা ৪ বাজে অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে আমার প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা বিরাট বড় জজ, কত না জানি টাকা। যা আয় করি, যা জমাই বছরে দুইবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়।  গত ৫ দিনে আমার উবার/পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪ টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা,কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে।  সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা (নেটে দেখলাম ) হেঁটে বের হতে হয়। যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা

রিকশায় যাওয়ার পথে জজ বান্ধবীর কথা স্মরণ করে অভিজ্ঞতা জানালেন মাহমুদা মিতু

সংসদ অধিবেশন শেষে বাসায় ফেরার পথে বান্ধবীর কথা স্মরণ করে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। ওই পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

রাত ৭টা ৪ বাজে অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে আমার প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা বিরাট বড় জজ, কত না জানি টাকা। যা আয় করি, যা জমাই বছরে দুইবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়। 

গত ৫ দিনে আমার উবার/পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪ টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা,কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে। 

সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা (নেটে দেখলাম ) হেঁটে বের হতে হয়। যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা বই, অন্য হাতে ব্যাগ-মোবাইল কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিল রাস্তার মাঝে বসে পড়ি। এতো কষ্ট লাগছিল। 

তারপর গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তার চেয়েও মজার হলো লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমনভাবে দেখছে, যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিল। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভিড়ে বোধ হয়, এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারির রিকশায় বাড়ি ফিরছে। 

লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ সুবিধা থাকত। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এমপিদের জন্যই ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এমপি সংসদে ঢুকেনি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫টা গাড়ি থাকতো। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে। অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এমপিরা আরও ধনী হইতো। তবে আমার মতো যারা আছেন। যেমন, মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই তাদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২ -৩ % মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটে ঘুটে দেখলাম, সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নাই। 

যাই হোক, এর মধ্যে খুশির খবর হলো গত রাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কম দামি শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারণ, সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানি নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মাশাআল্লাহ, দেখি বড় আপা। মানে আমার হাসবেন্ডের বোন ৪টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার দামি, কম দামি সব বড় আপার দেওয়া। বড় আপা সবসময়ই কীভাবে যেন আমার মনে কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে, না চাইতেই হাজির করে। আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল, একটা বড় বোনের। আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরণ করছে। আলহামদুলিল্লাহ।

তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয়, এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow