ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে সামনে রেখে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র থাকবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩০০ সংসদীয় আসনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ভোটকক্ষ প্রতি দুজন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্র প্রতি ৮/১০ জনের মতো পোলিং অফিসার প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত লোকবলও প্রস্তুত রাখতে হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার পাশাপাশি ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহস্রাধিক নির্বাহী হাকিম, তিন শতাধিক বিচারিক হাকিম ভোটের মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে তাদের কাজ কী? নির্বাচনের দিন তাদের কে কী দায়িত্ব পালন করবেন— জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো
রিটার্নিং অফিসার
ভোটের মাঠে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি একটি পরিবহন হয়ে থাকে সেখানে চালক ধরা হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাক। নির্বাচন পরিচালনায় সাংবিধানিকভাবে তিনিই সর্বেসর্বা । প্রার্থীদের মনোনয়ন বাছাই, মনোনয়ন বাতিল, প্রার্থীর বৈধতা কিংবা প্রতীক বরাদ্দ—পুরো ভোট প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন রিটার্নিং অফিসাররা। অর্থাৎ ইসি যেসব নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয় তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে রিটার্নিং অফিসারদের ওপর। এ ছাড়া প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের তালিকা তৈরি ও ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের দায়িত্বও থাকে তাদের ওপর। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে যে ফল আসে তা একসঙ্গে করে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। সাধারণত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার নিয়োগ পাওয়া ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তার মধ্যে ইসির মাত্র তিনজন রয়েছেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার
রিটার্নিং অফিসারের সহায়ক হিসেবে কাজ করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। সাধারণত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়াও নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রিসাইডিং অফিসার
ব্যালট বাক্স, কাগজ, কালি, সিলসহ নানা নির্বাচনি সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব থাকে প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর। তিনি কোনো ভোটকক্ষে উপস্থিত থাকেন না। সার্বিক কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকে তার ওপর। ভোটের সময় আলাদা কক্ষের জন্য সরঞ্জাম বণ্টন এবং প্রস্তুতির নেতৃত্ব দেন তিনি। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে একইসঙ্গে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তিনি।
সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার
একটি কেন্দ্রে একাধিক বুথ বা ভোটকক্ষ থাকে। আর প্রতিটি ভোটকক্ষের দায়িত্বে থাকেন একজন করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মূলত প্রিসাইডিং অফিসারের অধীনে কাজ করেন এবং তাকে সাহায্য করে থাকেন। বরাদ্দ কক্ষে পোলিং অফিসারসহ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার বসেন এবং কোনো ভোটার কেন্দ্রে ঢুকলে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ছাড়া ভোটগ্রহণ শেষ হলে সব ব্যালট বাক্স নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে ভোট গণনার কাজও করেন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা।
পোলিং অফিসার
প্রত্যেক ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে দুজন করে পোলিং অফিসার থাকেন। সাধারণত ভোটকক্ষে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তার জন্যই তারা নিয়োজিত থাকেন। পোলিং অফিসারদের কাজই থাকে ভোটার তালিকা দেখে ভোট দিতে আসা ভোটারদের শনাক্ত করা। এ সময় উচ্চস্বরে ভোট দিতে আসা ব্যক্তির নাম বলেন পোলিং অফিসার। যদি কোনো পোলিং এজেন্ট আপত্তি না করেন, তবে পোলিং অফিসার ওই ব্যক্তির হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে দাগ দিয়ে দেন— যাতে করে সহজে ভোটদানকারীদের চিহ্নিত করা যায়।
পোলিং এজেন্ট
ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রার্থীর একজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন, তাদের বলা হয় পোলিং এজেন্ট। তারা পোলিং অফিসারদের ভোটার শনাক্তে সাহায্য করেন। ভোটগ্রহণের আগে ব্যালট বাক্স যে খালি আছে, সেটাও পোলিং এজেন্টদের দেখাতে হয়। আবার ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনার সময়ও পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকেন। নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়, সেগুলোর আইনগত দিক দেখার দায়িত্ব থাকে ম্যাজিস্ট্রেটদের। কেউ জালভোট দিতে আসলে বা কোনো অনিয়মে ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচার করে শাস্তি বা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এমওএস/এমএমকে