ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার দুইদিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে রিমন মিয়া নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার মরিচাকান্দি-উলুকান্দি এলাকার কলেজ রোডের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নবীনগর উপজেলার নতুন থোল্লাকান্দি গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. হারিছ (২৬) এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বাবু (৩৬)।
পরে বুধবার (১৩ মে) সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বুধবার নিহতের পিতা ফোরকান মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত রিমন নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের নতুন থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে (রোববার) সকাল ১১টার দিকে তিনি ঢাকা যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন।
তার স্ত্রী সুমী আক্তার জানান, বের হওয়ার সময় তাকে ফোন করে কেউ ডেকে নেয়। তিনি যেতে নিষেধ করলেও পরে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সর্বশেষ তিনি স্ত্রীকে জানান, নাস্তা করে ফিরে আসবেন এবং বিকেলে বাসায় ফিরবেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন, তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা মরিচাকান্দি-উলুকান্দি এলাকার কলেজ রোডের পাশে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। মোবাইল কল রেকর্ড, গতিবিধি এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।