রিয়ালে আলোনসোর পতনের নেপথ্যে যেসব কারণ

মাত্র সাড়ে সাত মাসের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পথচলা শেষ হয়েছে কোচ জাবি আলোনসোর। সুপারকোপা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে পরাজয়ের পর সোমবার তাকে বিদায় জানায় ক্লাবটি। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পারস্পরিক সমঝোতা’ বলা হলেও, ক্লাব-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে—এই সিদ্ধান্ত ছিল বেশ কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যার চূড়ান্ত পরিণতি। রিয়াল মাদ্রিদের বোর্ডের প্রধান আপত্তির জায়গা ছিল আলোনসোর কর্তৃত্ব ও ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ। সুপারকোপা ফাইনালের শেষ মুহূর্তে মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ম্যাচ শেষে গার্ড অব অনার না দিয়ে সতীর্থদের মাঠ ছাড়তে ইশারা করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আলোনসো তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেননি। বোর্ডের একটি অংশ এটিকে কোচের নেতৃত্ব দুর্বল হওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেছে। এছাড়া শুরু থেকেই ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আলোনসোর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি বলেও জানা গেছে। বায়ার লেভারকুজেনে সাফল্যের পর তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও, মাদ্রিদে তার প্রকল্পকে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে দেখা হয়নি। ভালো ফল সত্ত্বেও তিনি ছিলেন ‘চাপের মধ্যে থাকা’ কোচ। ফলাফলের দ

রিয়ালে আলোনসোর পতনের নেপথ্যে যেসব কারণ

মাত্র সাড়ে সাত মাসের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পথচলা শেষ হয়েছে কোচ জাবি আলোনসোর। সুপারকোপা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে পরাজয়ের পর সোমবার তাকে বিদায় জানায় ক্লাবটি। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পারস্পরিক সমঝোতা’ বলা হলেও, ক্লাব-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে—এই সিদ্ধান্ত ছিল বেশ কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যার চূড়ান্ত পরিণতি।

রিয়াল মাদ্রিদের বোর্ডের প্রধান আপত্তির জায়গা ছিল আলোনসোর কর্তৃত্ব ও ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ। সুপারকোপা ফাইনালের শেষ মুহূর্তে মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ম্যাচ শেষে গার্ড অব অনার না দিয়ে সতীর্থদের মাঠ ছাড়তে ইশারা করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আলোনসো তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেননি। বোর্ডের একটি অংশ এটিকে কোচের নেতৃত্ব দুর্বল হওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখেছে।

এছাড়া শুরু থেকেই ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আলোনসোর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেননি বলেও জানা গেছে। বায়ার লেভারকুজেনে সাফল্যের পর তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও, মাদ্রিদে তার প্রকল্পকে কখনোই দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে দেখা হয়নি। ভালো ফল সত্ত্বেও তিনি ছিলেন ‘চাপের মধ্যে থাকা’ কোচ।

ফলাফলের দিক থেকেও প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান ছিল। আলোনসোর সময়ে রিয়াল লা লিগায় শীর্ষে থাকা দল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছিল টপ–৮-এর ভেতরে এবং কোপা দেল রেতেও টিকে ছিল। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে ট্রফি হার—বিশেষ করে ফাইনালে—রিয়ালে বড় ব্যর্থতা হিসেবেই ধরা হয়।

ড্রেসিংরুমে একাধিক ইস্যুও আলোনসোর অবস্থান দুর্বল করেছে। ভিনিসিউস জুনিয়রের ফর্মহীনতা ও অসন্তোষ, এমবাপের ব্যক্তিগত রেকর্ড–কেন্দ্রিক মনোযোগ এবং রক্ষণভাগে ধারাবাহিক চোট—সব মিলিয়ে দলকে নিজের কৌশলে পুরোপুরি বিশ্বাসী করে তুলতে পারেননি তিনি। হাই প্রেসিং ও পজিশনাল ফুটবল চালু করার চেষ্টাও কাঙ্ক্ষিতভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

ক্লাব সূত্রের দাবি, মিডফিল্ড শক্তিশালী করার অনুরোধ জানালেও শীতকালীন দলবদলে আলোনসো তেমন সহায়তা পাননি। এতে কৌশলগত সীমাবদ্ধতা আরও বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে, রিয়ালে আলোনসোর বিদায় কোনো এক ম্যাচের ফল নয়। এটি ছিল কর্তৃত্বের সংকট, আস্থার অভাব এবং ক্লাবের ভেতরের প্রত্যাশা–সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার সম্মিলিত ফল। এখন দায়িত্ব সামলাবেন আলভারো আরবেলোয়া, তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রিয়ালের এই সমস্যাগুলো কি শুধু কোচ বদলালেই মিটবে?

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow