রোজা অবস্থায় ইনজেকশন, টিকা বা ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি?

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে অসুস্থতা, ডায়াবেটিস, জ্বর বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে অনেকেরই ইনজেকশন, টিকা কিংবা ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, রোজা অবস্থায় এসব চিকিৎসা নেওয়া যাবে কি না, আর এতে রোজা নষ্ট হবে কি না। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিকে রয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে রোজা সহিহভাবে আদায় করার দায়িত্ব। ফিকহের কিতাব ও আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূল কারণ হলো শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ—যেমন মুখ, নাক বা পায়ুপথ দিয়ে কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশ করা এবং তা পাকস্থলী বা গলায় পৌঁছানো। কিন্তু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শরীরে ইনজেকশন, টিকা বা ইনসুলিন নেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা বিধান বর্ণিত হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লুকোজ স্যালাইন বা শক্তিবর্ধক স্যালাইন নেওয়ার ক্ষেত্রেও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়েও ফিকহে আলোচনা রয়েছে। তাই অসুস্থতা বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে রোজা অবস্থায় কী করা উচিত, সে বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য জরুরি। চলুন তাহলে জেনে নিই, রোজা অবস্থায় ইনজেকশন, টিকা, ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি না- ফুক্বাহায়ে কেরামরা

রোজা অবস্থায় ইনজেকশন, টিকা বা ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি?

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে অসুস্থতা, ডায়াবেটিস, জ্বর বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে অনেকেরই ইনজেকশন, টিকা কিংবা ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, রোজা অবস্থায় এসব চিকিৎসা নেওয়া যাবে কি না, আর এতে রোজা নষ্ট হবে কি না। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিকে রয়েছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে রোজা সহিহভাবে আদায় করার দায়িত্ব।

ফিকহের কিতাব ও আলেমদের ব্যাখ্যায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূল কারণ হলো শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ—যেমন মুখ, নাক বা পায়ুপথ দিয়ে কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশ করা এবং তা পাকস্থলী বা গলায় পৌঁছানো।

কিন্তু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শরীরে ইনজেকশন, টিকা বা ইনসুলিন নেওয়ার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা বিধান বর্ণিত হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লুকোজ স্যালাইন বা শক্তিবর্ধক স্যালাইন নেওয়ার ক্ষেত্রেও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়েও ফিকহে আলোচনা রয়েছে। তাই অসুস্থতা বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনে রোজা অবস্থায় কী করা উচিত, সে বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য জরুরি।

চলুন তাহলে জেনে নিই, রোজা অবস্থায় ইনজেকশন, টিকা, ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি না-

ফুক্বাহায়ে কেরামরা বলছেন, রোজা অবস্থায় শরীরে ইজেকশন, টিকা, ইনসুলিন বা স্যালাইন নেওয়া জায়েজ। এতে রোজা নষ্ট হয় না, চাই তা রগ কিংবা গোশত যেখানেই নেওয়া হোক না কেন। কারণ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে যে ওষুধ পৌঁছানো হয়, তা গ্রহণযোগ্য কোনো রাস্তা (নাক, মুখ, পায়ুপথ) দিয়ে প্রবেশ করে না। বরং শিরা বা লোমকূপ দিয়ে প্রবেশ করে।

আর রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য শরীরের এসব রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু গলায় বা পাকস্থলীতে পৌঁছানো জরুরি। এটি ইঞ্জেকশনের ক্ষেত্রে ঘটে না। সুতরাং রোজা অবস্থায় শরীরে ইঞ্জেকশন লশ করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

তবে রোজার কারণে শরীরে স্বাভাবিক যে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়, তা দূর করার জন্য বা ক্ষুধা নিবারণের জন্য গ্লোকোজ স্যালাইন (যা খাদ্যের কাজ দেয়) গ্রহণ করা মাকরূহে তাহরিমি। অবশ্য মারাত্মক দুর্বলতা ও অসুস্থতায় গ্লোকোজ স্যালাইন নেওয়া জায়েজ। কিন্তু সর্বাবস্থায় ইঞ্জেকশনের দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

( আলবাহরুর রায়েক : ২/২৭৩, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯৫, ফিকহুন নাওয়াজিল : ২/২৯৭, ফাতাওয়াল লাজনাহ আদদাইমাহ : ১০/১২৬, ২৫১-২৫২, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ২/১৪৪-১৪৭, ইমদাদুল মুফতিন : পৃ. ৪৮৯, ফাতাওয়া রহিমিয়া :  ৭/২৫৭, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪২২, ফাতাওয়ায়ে উসমানি : ২/১৮১-১৮৬, জাদিদ ফিকহি মাসায়েল :  ১/১২২ )

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow