রোয়া বিলে শেষ হলো ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা

শেরপুরে শেষ হলো প্রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী শেরপুর পৌরসভার নবীনগর মহল্লার রোয়া বিলে বসা মেলায় আসেন হাজারো দর্শনার্থী। মেলা ঘিরে শেরপুর শহরের নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মেলা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, কলাই, বাদাম, কটকটি, তিলের খাজাসহ নানা ধরনের খাবার, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী এবং গৃহস্থালী পণ্যের পসরা বসেছে। মেলায় ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই খেলা দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমায়। এছাড়াও ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস, গাঙ্গি খেলা ও নারীদের মিউজিক্যাল চেয়ারসহ গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের দাবি, প্রায় দুইশো বছর ধরে নবীনগর এলাকায় এ মেলা হয়ে আসছে। পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারাও। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। এদিকে মেলার আশপাশে স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে নতুন আমন ধানের চালের পিঠা-পায়েশ

রোয়া বিলে শেষ হলো ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা

শেরপুরে শেষ হলো প্রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী শেরপুর পৌরসভার নবীনগর মহল্লার রোয়া বিলে বসা মেলায় আসেন হাজারো দর্শনার্থী। মেলা ঘিরে শেরপুর শহরের নবীনগরসহ আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী মুড়কি-মুড়ি, মোয়া, নিমকি, গজা, কলাই, বাদাম, কটকটি, তিলের খাজাসহ নানা ধরনের খাবার, প্লাস্টিক ও মাটির তৈরি শিশুদের বিভিন্ন খেলনা, নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী এবং গৃহস্থালী পণ্যের পসরা বসেছে। মেলায় ঘোড়দৌড় ও গাঙ্গি খেলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই খেলা দেখতে অনেক মানুষ ভিড় জমায়।

এছাড়াও ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস, গাঙ্গি খেলা ও নারীদের মিউজিক্যাল চেয়ারসহ গ্রামীণ বিভিন্ন খেলা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রোয়া বিলে শেষ হলো ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা

স্থানীয় বাসিন্দা ও আয়োজকদের দাবি, প্রায় দুইশো বছর ধরে নবীনগর এলাকায় এ মেলা হয়ে আসছে। পূর্বপুরুষদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তারাও। প্রতিবছর বোরো আবাদের আগেই এ মেলার আয়োজন করা হয়।

এদিকে মেলার আশপাশে স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে নতুন আমন ধানের চালের পিঠা-পায়েশ খাওয়ার উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বাড়িতেই দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ছুটে আসেন পিঠা খেতে এবং মেলা দেখতে।

ঢাকা থেকে মেলায় আসা সুইটি আক্তার বলেন, আমার বাবার বাড়ি শেরপুরে। প্রতিবছর এই দিনে আমি মেলায় পরিবারসহ অংশগ্রহণ করি। আমরা শুনেছি এ মেলা প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো।

শহরের খরমপুর থেকে আসা সাদিয়া জান্নাত অপি বলেন, স্বামীসহ মেলায় ঘুরতে এসেছি। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের খেলাধুলা দেখে খুবই আনন্দ লেগেছে। এ মেলায় কিছু কেনাকাটাও করেছি। সব মিলিয়ে দারুণ একটা আয়োজন ছিল।

রোয়া বিলে শেষ হলো ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা

মাটির খেলনা ও জিনিসপত্র নিয়ে মেলায় আসা দোকানি সুরঞ্জন পাল জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। আমরা এ মেলায় অল্প সময়ে ভালো বিক্রি করতে পারি, অনেক লোক এ মেলায় আসে। শুক্র ও শনিবার সকালেও বিক্রি হয়েছে।

ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণকারী জামালপুরের ইসলামপুরের আব্দুস ছামাদ বলেন, আমি ২০ বছর ধরে ঘোড়া দৌড়ায়। এ মেলাটি প্রত্যেক বছর আয়োজন করা হয়। আমি অংশ নিই, এবার আমার নাতিকে দিয়েছি। এবারের আয়োজন অন্যান্যবারের চেয়ে ভালো লেগেছে।

শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, প্রায় দুইশ বছর ধরে এই পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাই বাবা-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। পরের বছর কমিটি গঠন করে আরও বড় আকারে দুই দিনব্যাপী মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জাগো নিউজকে জানান, প্রায় দুইশ বছর ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্যবাহী মেলা ধরে রাখার জন্য প্রতি বছরই আয়োজন করা হয়ে থাকে। আমরা আশা করবো আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার।

মো. নাঈম ইসলাম/এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow