লাঠির বদলে নাতির কাঁধ: সত্তরোর্ধ বিজয়ের এক 'ভোট-বিজয়'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপে টগবগ করছে গাজীপুর-৫ আসন। শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মিললেও কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ কেন্দ্রে তখন উৎসবের আমেজ। লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত ভোটার। কেউ তরুণ, কেউ প্রৌঢ়। তবে সবার ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ছিলেন একজন মানুষ—সত্তরোর্ধ বিজয় চন্দ্র দাস। শরীরের শক্তি কমেছে, লাঠি ছাড়া চলা দায়। কিন্তু আজ তিনি এসেছেন অন্য এক শক্তিতে ভর করে। সেই শক্তির নাম তার নাতি, সাগর চন্দ্র দাস। বিজয় দাসের জন্য এই ভোট শুধু একটি সিল মারা নয়, বরং দেশের প্রতি তার শেষ বয়সের এক দায়বদ্ধতা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে নাতির শক্ত কাঁধ হয়ে উঠেছে তার চলার পথ। সিঁড়ি বেয়ে ভোটকক্ষে ওঠার সময় বিজয় দাসের কপালে ভাঁজ পড়লেও চোখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর তার মলিন মুখে ফুটে ওঠে বিজয়ের হাসি। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, “বাবা, শরীর তো এখন আর আগের মতো চলে না। পা দুটো বেইমানি করে। কিন্তু ভোট তো নাগরিক অধিকার। মনে মনে ভাবছিলাম এবার বোধহয় আর যাওয়া হবে না। কিন্তু নাতিটা যখন বলল— ‘দাদু, আমি আছি তো’, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম

লাঠির বদলে নাতির কাঁধ: সত্তরোর্ধ বিজয়ের এক 'ভোট-বিজয়'

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপে টগবগ করছে গাজীপুর-৫ আসন। শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মিললেও কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ কেন্দ্রে তখন উৎসবের আমেজ। লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত ভোটার। কেউ তরুণ, কেউ প্রৌঢ়। তবে সবার ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ছিলেন একজন মানুষ—সত্তরোর্ধ বিজয় চন্দ্র দাস।

শরীরের শক্তি কমেছে, লাঠি ছাড়া চলা দায়। কিন্তু আজ তিনি এসেছেন অন্য এক শক্তিতে ভর করে। সেই শক্তির নাম তার নাতি, সাগর চন্দ্র দাস। বিজয় দাসের জন্য এই ভোট শুধু একটি সিল মারা নয়, বরং দেশের প্রতি তার শেষ বয়সের এক দায়বদ্ধতা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে নাতির শক্ত কাঁধ হয়ে উঠেছে তার চলার পথ। সিঁড়ি বেয়ে ভোটকক্ষে ওঠার সময় বিজয় দাসের কপালে ভাঁজ পড়লেও চোখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর তার মলিন মুখে ফুটে ওঠে বিজয়ের হাসি।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, “বাবা, শরীর তো এখন আর আগের মতো চলে না। পা দুটো বেইমানি করে। কিন্তু ভোট তো নাগরিক অধিকার। মনে মনে ভাবছিলাম এবার বোধহয় আর যাওয়া হবে না। কিন্তু নাতিটা যখন বলল— ‘দাদু, আমি আছি তো’, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমার একটা ভোটে যদি দেশের ভালো হয়, সেই আশায় চলে আসলাম।”

দাদুকে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পেরে গর্বিত নাতি সাগর চন্দ্র দাসও। তিনি বলেন, “দাদু সকাল থেকেই অস্থির ছিলেন ভোট দিতে আসার জন্য। ওনার হাঁটাচলায় কষ্ট হয় দেখে আমিই সিদ্ধান্ত নিই কাঁধে করে নিয়ে আসব। দাদুর এই বয়সেও ভোটের প্রতি এমন আগ্রহ দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। বড়দের কাছে এটাই আমাদের শেখার বিষয়।”

কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ কেন্দ্রে ভোটারদের এমন উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দুপুর ২টার মধ্যেই এই কেন্দ্রে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। গাজীপুর-৫ আসনে এবার মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাত প্রার্থীর সমর্থকদের আনাগোনায় কেন্দ্র প্রাঙ্গণ ছিল মুখরিত।

বিজয় চন্দ্র দাসের মতো সাধারণ ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, গণতন্ত্রের উৎসবে বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই বড় বাধা হতে পারে না। নাতির কাঁধে চড়ে দেওয়া বিজয় দাসের সেই ভোটটি যেন এই নির্বাচনী উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর এক বিজ্ঞাপন হয়ে থাকল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow