লা নুই বেঙ্গলী: ব্যর্থ প্রেমের অমর শোকগাথা
তানজিলা দীবা মির্চা এলিয়াদ ১৯০৭ সালের ১৩ মার্চ রোমানিয়ার বুখারেস্টে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ, লেখক এবং ইতিহাসবিদ। তিনি ধর্মের ইতিহাস প্রতীকবিদ্যা এবং মিথোলজির ওপর তার অসামান্য কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ১৯৮৬ সালের ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মির্চা এলিয়াদের ‘লা নুই বেঙ্গলী’ বইটিতে সাধারণত্বের আড়ালে লুকানো আছে মানব হৃদয়ের গভীর জটিলতা, হতাশা, ভালোবাসার তীব্রতা, বিরহী মনের দুঃখগাথা, যা যুগ থেকে যুগান্তরে আজও প্রতিটি পাঠককে শিহরিত করে তোলে। বিরহের দুঃখগাথাকে আলিঙ্গন করে আজও মানুষ আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে ভাবে, হায় রে জীবন! হায় রে নিয়তি! প্রেমিক হৃদয়ের আত্মাহুতি কেন এতটাই বেদনার। ‘লা নুই বেঙ্গলী’ ব্যর্থ প্রেমের অমর শোকগাথা। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা বেদনার্ত ঘটনার শোকাবহ প্রেক্ষাপট। আরও পড়ুন বই আলোচনা / চোখের বালি: প্রেম ও ঈর্ষার জটিল আখ্যান মির্চা এলিয়াদ রোমানিয়া থেকে কলকাতায় চাকরি ও ভারতীয় সংস্কৃতির ওপর জ্ঞানার্জন করতে এসে প্রেমে পড়ে যান মৈত্রেয়ী দেবী নামে একজন সুশিক্ষিত স্মার্ট বাঙালি তরুণীর। বইটি তারই অসম্পূর্ণ প্রেমের উপাখ্
তানজিলা দীবা
মির্চা এলিয়াদ ১৯০৭ সালের ১৩ মার্চ রোমানিয়ার বুখারেস্টে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ, লেখক এবং ইতিহাসবিদ। তিনি ধর্মের ইতিহাস প্রতীকবিদ্যা এবং মিথোলজির ওপর তার অসামান্য কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। ১৯৮৬ সালের ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মির্চা এলিয়াদের ‘লা নুই বেঙ্গলী’ বইটিতে সাধারণত্বের আড়ালে লুকানো আছে মানব হৃদয়ের গভীর জটিলতা, হতাশা, ভালোবাসার তীব্রতা, বিরহী মনের দুঃখগাথা, যা যুগ থেকে যুগান্তরে আজও প্রতিটি পাঠককে শিহরিত করে তোলে। বিরহের দুঃখগাথাকে আলিঙ্গন করে আজও মানুষ আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে ভাবে, হায় রে জীবন! হায় রে নিয়তি! প্রেমিক হৃদয়ের আত্মাহুতি কেন এতটাই বেদনার। ‘লা নুই বেঙ্গলী’ ব্যর্থ প্রেমের অমর শোকগাথা। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা বেদনার্ত ঘটনার শোকাবহ প্রেক্ষাপট।
মির্চা এলিয়াদ রোমানিয়া থেকে কলকাতায় চাকরি ও ভারতীয় সংস্কৃতির ওপর জ্ঞানার্জন করতে এসে প্রেমে পড়ে যান মৈত্রেয়ী দেবী নামে একজন সুশিক্ষিত স্মার্ট বাঙালি তরুণীর। বইটি তারই অসম্পূর্ণ প্রেমের উপাখ্যান ও পৃথিবীখ্যাত উপন্যাস। বইটি প্রথমে মির্চা এলিয়াদ ‘মৈত্রেয়ী’ নামে রোমানিয়ান ভাষায় প্রকাশ করেন। পরে ফরাসি ভাষায় ‘লা নুই বেঙ্গলী’ এবং সর্বশেষে মৈত্রেয়ী দেবী নিজেই বইটিকে বাংলায় ‘ন হন্যতে’ নামে প্রকাশ করেন।
মির্চা এবং মৈত্রেয়ীর মধ্যে প্রথমে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সম্পর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে তা অত্যন্ত গভীর প্রেমে পরিণত হয়। মৈত্রেয়ী ছিলেন তৎকালীন আদর্শ হিন্দু পরিবারের সন্তান। তবে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ও মেলামেশা হিন্দু রক্ষণশীল পরিবারের সম্মুখে এক প্রকার বাধার মুখে পড়ে।
নরেন্দ্র সেন যখন তাদের এই গোপন সম্পর্কের কথা জানতে পারেন; তখন তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি মির্চাকে তৎক্ষণাৎ তার বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং মৈত্রেয়ীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। শেষপর্যন্ত তাদের এই অসমাপ্ত প্রেম বিচ্ছেদে রূপ নেয় এবং মির্চা ভগ্ন হৃদয়ে ভারত ত্যাগ করেন।
আপনি যদি প্রেম, বিচ্ছেদ এবং রোমান্টিকতার স্বাদ পেতে চান। তাহলে ‘লা নুই বেঙ্গলী’ আপনার জন্য অবশ্য পাঠ্য। আশা করি বইটি সবার ভালো লাগবে। আমি বইটির বহুল পাঠ ও প্রচার কামনা করছি।
বই: লা নুই বেঙ্গলী
লেখক: মির্চা এলিয়াদ
প্রকাশক: দূরবীণ
মূল্য: ২০০ টাকা।
এসইউ
What's Your Reaction?

