লিংকডইন মেসেজ থেকে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ দলে ব্যাংক কর্মকর্তা

শুনে অবাক হতে পারেন। তবে রবার্তো লোপেসের গল্পটা কোনো অংশেই সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের ব্যাংকের চাকরি করা আর দশটা মানুষের মতোই জীবন-যাপন করা লোপেস এবার কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছেন দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই। তিনি নিজেও কি ভেবেছিলেন, জন্মস্থানের চেয়ে ৩ হাজার মাইল দূরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রের জাতীয় দলের হয়ে তিনি নাম লেখাবেন বিশ্বকাপ মঞ্চে? উত্তরটা যে ‘না’ সেটি সহজেই অনুমান করতে পারছেন আপনারা। অবশ্য ৩৩ বছর বয়সী লোপেস নিজেই জানিয়েছেন ব্যাংকের চাকরি মোটেও উপভোগ করছিলেন না। তবে অবসরে চালিয়ে যাচ্ছিলেন শখের ফুটবল খেলা। ‘পিকো’ ডাকনামে পরিচিত এই ডিফেন্ডার ১০ বছর আগে সদ্য যোগ্যতা অর্জন করা এক মর্টগেজ অ্যাডভাইজার ছিলেন এবং পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের লিগে বোহেমিয়ান্সের হয়ে খণ্ডকালীন ফুটবল খেলতেন। ২০১৭ সালে ডাবলিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব শ্যামরক রোভার্স তাকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি ফুটবলে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। মুহূর্তেই সেই সুযোগ লুফে নিয়ে হয়ে যান পূর্ণকালীন ফুটবলার। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। তবে আয়ারল্যান্ডের একজন সা

লিংকডইন মেসেজ থেকে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ দলে ব্যাংক কর্মকর্তা

শুনে অবাক হতে পারেন। তবে রবার্তো লোপেসের গল্পটা কোনো অংশেই সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের ব্যাংকের চাকরি করা আর দশটা মানুষের মতোই জীবন-যাপন করা লোপেস এবার কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামতে যাচ্ছেন দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবেই।

তিনি নিজেও কি ভেবেছিলেন, জন্মস্থানের চেয়ে ৩ হাজার মাইল দূরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রের জাতীয় দলের হয়ে তিনি নাম লেখাবেন বিশ্বকাপ মঞ্চে? উত্তরটা যে ‘না’ সেটি সহজেই অনুমান করতে পারছেন আপনারা। অবশ্য ৩৩ বছর বয়সী লোপেস নিজেই জানিয়েছেন ব্যাংকের চাকরি মোটেও উপভোগ করছিলেন না। তবে অবসরে চালিয়ে যাচ্ছিলেন শখের ফুটবল খেলা।

‘পিকো’ ডাকনামে পরিচিত এই ডিফেন্ডার ১০ বছর আগে সদ্য যোগ্যতা অর্জন করা এক মর্টগেজ অ্যাডভাইজার ছিলেন এবং পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের লিগে বোহেমিয়ান্সের হয়ে খণ্ডকালীন ফুটবল খেলতেন।

২০১৭ সালে ডাবলিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব শ্যামরক রোভার্স তাকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি ফুটবলে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। মুহূর্তেই সেই সুযোগ লুফে নিয়ে হয়ে যান পূর্ণকালীন ফুটবলার। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে।

তবে আয়ারল্যান্ডের একজন সাবেক ব্যাংক কর্মচারী থেকে কীভাবে কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, অনেকের মনেই জাগতে পারে সেই প্রশ্ন। সমাধান করে দেওয়া যাক সেই প্রশ্নের। অদ্ভুত মনে হতে পারে তবে, লোপসকে লিংকডইনের মাধ্যমেই খুঁজে পায় কেপ ভার্দে ফুটবল দল। ২০১৯ সালে কেপ ভার্দের সেসময়ের কোচ রুই আগুয়াস তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন লিংকডইনে। তিনি জানতে পারেন লোপেসের বাবা কার্লোস কেপ ভার্দের নাগরিক।

ম্যাসেজটি পেয়েও পাত্তা দেননি লোপেস। পর্তুগিজ ভাষায় পাঠানো সেই মেসেজকে স্প্যাম ভেবে কোনো উত্তর দেননি তিনি। বিবিসিকে লোপেস বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এটা স্প্যাম মেসেজ, তাই গুরুত্ব দিইনি। প্রায় নয় মাস পর তিনি আবার মেসেজ দেন, জিজ্ঞেস করেন আমি কি তার কথা ভেবে দেখেছি। আমি তখন খুবই বিব্রত হয়েছিলাম যে এতদিন উত্তর দিইনি।’

পর্তুগিজ ভাষা বুঝতে না পারার কারণেই মূলত তিনি ম্যাসেজটিকে স্প্যাম ভেবে বসেন। পরে দ্বিতীয়বার মেসেজ পেয়ে সহায়তা নেন গুগল ট্রান্সলেটরের। তিনি বলেন, ‘আমি মেসেজটি কপি করে গুগল ট্রান্সলেটে দিই, তখন বুঝতে পারি তারা আমাকে কেপ ভার্দের দলে খেলার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি তখন খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে যাই এবং বলি, হ্যাঁ, আমি অবশ্যই দলে যোগ দিতে চাই।’

মেসেজের রিপ্লাই করার পর ঝড়ের বেগে পরিবর্তন হয়ে যায় লোপেসের জীবন। গত ৭ বছর ধরে তিনি নিয়মিত খেলছেন কেপ ভার্দের জাতীয় দলে। কেপ ভার্দেকে বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ করার কিছুদিন পরই প্রথমবারের মতো বাবা হন তিনি। তার স্ত্রী লিয়াহ জন্ম দেন পুত্র সন্তান ডিয়েগোকে।

আজ রাতে কেপভার্দে তাদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেন। দেশ ও নিজের স্বপ্ন পূরণ করে গর্বিত লোপেস, ‘ছোটবেলা থেকেই, এবং আমি মনে করি সব ফুটবলারই এমন স্বপ্ন দেখে, তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে চায়। আমার জন্য সেটার চূড়ান্ত পর্যায় হলো বিশ্বকাপ। নিজের পরিবারের হয়ে জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা এবং পরিবারের নামকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে তুলে ধরা আমাকে গভীর গর্বে ভরিয়ে দেয়।’

আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow