লিচু নিয়ে সাবেক শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খুন হলেন ভালুকার বৃদ্ধ হাফিজ উদ্দিন

মেয়ের জন্য লিচু নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন (৬৩) নামে এক বৃদ্ধ। হাফিজ উদ্দিনকে হত্যার পর, রক্তাক্ত লাশ অটোরিকশায় করে পুনরায় ভালুকায় নিহতের গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাহমুদপুরে পাঠিয়ে দিয়েছে অভিযুক্তরা। নিহত হাফিজ উদ্দিন ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোড়লের ছেলে। নিহতের স্বজন ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৫মে) সকালে হাফিজ উদ্দিন তার এক বন্ধু নাজমুলকে সাথে গয়েশপুর বাজার থেকে মেয়ের জন্য লিচু কিনে সাবেক শ্বশুরবাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে যান হাফিজ উদ্দিন। নাজমুলকে মোবাইল ফোন দিয়ে বাহিরে বসিয়ে রেখে বাড়ির ভিতরে যান হাফিজ উদ্দিন। কিছুক্ষণ পরে নাজমুল বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে দেখেন হাফিজ উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষেতের মধ্যে গড়াগড়ি করেছে। এ সময় হাফিজ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার, সাবেক শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি নাজমুলকেও মারধোর করে বলেন হাফিজ উদ্দিনকে দ্রুত এখান থেকে নিয়ে যেতে। পরে নাজমুল হাফিজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে হাফিজ উদ্দিনের মৃতদেহ

লিচু নিয়ে সাবেক শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খুন হলেন ভালুকার বৃদ্ধ হাফিজ উদ্দিন

মেয়ের জন্য লিচু নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন (৬৩) নামে এক বৃদ্ধ। হাফিজ উদ্দিনকে হত্যার পর, রক্তাক্ত লাশ অটোরিকশায় করে পুনরায় ভালুকায় নিহতের গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাহমুদপুরে পাঠিয়ে দিয়েছে অভিযুক্তরা।

নিহত হাফিজ উদ্দিন ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোড়লের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৫মে) সকালে হাফিজ উদ্দিন তার এক বন্ধু নাজমুলকে সাথে গয়েশপুর বাজার থেকে মেয়ের জন্য লিচু কিনে সাবেক শ্বশুরবাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে যান হাফিজ উদ্দিন। নাজমুলকে মোবাইল ফোন দিয়ে বাহিরে বসিয়ে রেখে বাড়ির ভিতরে যান হাফিজ উদ্দিন। কিছুক্ষণ পরে নাজমুল বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে দেখেন হাফিজ উদ্দিন রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষেতের মধ্যে গড়াগড়ি করেছে। এ সময় হাফিজ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী নাজমা আক্তার, সাবেক শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি নাজমুলকেও মারধোর করে বলেন হাফিজ উদ্দিনকে দ্রুত এখান থেকে নিয়ে যেতে। পরে নাজমুল হাফিজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে হাফিজ উদ্দিনের মৃতদেহটি ভালুকায় তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ঘটনার স্বাক্ষী নাজমুল জানান, সকালে গয়েশপুর বাজার থেকে মেয়ের জন্য লিচু কিনে হাফিজ তাকে নিয়ে তার সাবেক শ্বশুর বাড়িতে যান এবং সেখানে বাড়ির বাহিরে তাকে বসিয়ে রেখে ভিতরে যান হাফিজ উদ্দিন কিছুক্ষণ পরে তাকে ডাকার জন্য গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষেতের মধ্যে গড়াগড়ি করেতে দেখেন পরে তাকেও মারধোর করে হাফিজ উদ্দিনের শ্বশুর বাড়ি লোকজন একপর্যায়ে হাফিজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে অটোরিকশা যোগে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রিগান নামে স্থানীয় একজন বলেন, হাফিজ উদ্দিন তিনি বিবাহ করেছিলেন নাজমা আক্তার তার তৃতীয় স্ত্রী বছর দুয়েক আগে নাজমা আক্তার এর সাথে ডিভোর্স হয় এবং পরে পুনরায় অন্যত্র নাজমা আক্তারের বিয়ে হয়। নাজমা আক্তারের ঘরে হাফিজ উদ্দিনে তিনটি সন্তান রয়েছে যার মধ্যে রাব্বি (১৮), নিরব (১৪) নামে দুই ছেলে ও হাবিবা (৬) নামে একটি শিশু কন্যা সন্তান রয়েছে। হাফিজ উদ্দিন তার শিশু কন্যা হাবিবাকে দেখার জন্য পার্শ্ববর্তী উপজেলার গয়েশপুর বাজার থেকে লিচু কেনেন। এরপর তিনি মেয়ের সাথে দেখা করতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে তার সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, শ্যালকরা মিলে তাকে হত্যা করেন এবং লাশ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি কেউ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জন্য শ্রীপুর থানায় বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow