‘লিভ ইন সন্দেহে’ দম্পতির ফ্ল্যাটে শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক বিবাহিত দম্পতির ভাড়া বাসায় ‘লিভ ইন’ সম্পর্কের সন্দেহে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাসার দরজায় ধাক্কাধাক্কি, লাথি ও গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলার সময় ওই দম্পতি বাসায় না থাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সোমবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় ৫-৬ জনের একটি দল বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তবে ভুক্তভোগী দম্পতি তখন বাসায় ছিলেন না। ওই ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষে দুই নারী শিক্ষার্থী ও একজনের মা অবস্থান করছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনের পরনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও শিপন নাম লেখা জার্সি দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী। গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানও হামল
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক বিবাহিত দম্পতির ভাড়া বাসায় ‘লিভ ইন’ সম্পর্কের সন্দেহে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় বাসার দরজায় ধাক্কাধাক্কি, লাথি ও গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলার সময় ওই দম্পতি বাসায় না থাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সোমবার বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় ৫-৬ জনের একটি দল বাসায় গিয়ে তাদের খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তবে ভুক্তভোগী দম্পতি তখন বাসায় ছিলেন না। ওই ফ্ল্যাটের অন্য কক্ষে দুই নারী শিক্ষার্থী ও একজনের মা অবস্থান করছিলেন।
ঘটনার একটি ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনের পরনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও শিপন নাম লেখা জার্সি দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী। গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানও হামলায় অংশ নেওয়া চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী স্বামীর ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত এবং তার স্ত্রীও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্তের শিকার হওয়ার পর তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টি ছেড়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। বর্তমানে তারা নলাম এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তাদের সঙ্গে আরও দুই নারী শিক্ষার্থী থাকেন।
তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি বাজারে ছিলাম। এ সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি বাসায় গিয়ে দরজায় লাথি ও ধাক্কাধাক্কি করেন এবং বাসায় থাকা নারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ‘শিপন’ নামের একজনকে ভিডিও দেখে শনাক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।”
ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি তখন বাসায় ছিলাম না। আমাকে পেলে হয়তো মারধর করত। ঘটনার পুরো ভিডিও ও অডিও আমার কাছে আছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।’
তবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। তার দাবি, ওই বাসায় তিন নারী ও একজন পুরুষ লিভ ইন সম্পর্কে বসবাস করছেন,এমন অভিযোগ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি ওই বাসাকে কেন্দ্র করে আগে চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘ওরা বলেছে, এলাকায় বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। একটা বাড়িতে তিনটা মেয়ে ও একজন ছেলে লিভ ইনে থাকে। এ বিষয়টি জানতে তারা সেখানে গিয়েছিল।’
তবে ওই শিক্ষার্থীরা কাউকে মারধরের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা শুধু ডাকাডাকি করেছেন। বাসা ভাঙচুরের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সোমবার শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষার্থীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
What's Your Reaction?