শতাধিক এনজিও-নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিল বুরকিনা ফাসো

শতাধিক এনজিও ও নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিয়েছে বুরকিনা ফাসো। দেশটির সামরিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মৌলিক অধিকারের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটিতে একটি ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলও ভেঙে দিয়েছিল সরকার। বুধবার এক ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী’ ১১৮টি এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলোর সবই বুকিনা ফাসোভিত্তিক। সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ মানবাধিকার রক্ষার কাজে যুক্ত ছিল। ২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার এনজিও, শ্রমিক সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতার ওপর কঠোর দমন চালিয়ে আসছে। গত জুলাইয়ে ট্রাওরে একটি আইনের মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম

শতাধিক এনজিও-নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিল বুরকিনা ফাসো

শতাধিক এনজিও ও নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিয়েছে বুরকিনা ফাসো। দেশটির সামরিক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘মৌলিক অধিকারের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটিতে একটি ডিক্রির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলও ভেঙে দিয়েছিল সরকার।

বুধবার এক ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী’ ১১৮টি এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এগুলোর সবই বুকিনা ফাসোভিত্তিক। সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ মানবাধিকার রক্ষার কাজে যুক্ত ছিল।

২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার এনজিও, শ্রমিক সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতার ওপর কঠোর দমন চালিয়ে আসছে।

গত জুলাইয়ে ট্রাওরে একটি আইনের মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম সীমিত করেন। এর এক মাসের মধ্যেই প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সরকার ২১টি সংগঠনের অনুমোদন বাতিল করে এবং আরও ১০টিকে তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

বুধবারের ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী এমিলি জারবো নতুন করে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলোর নেতাদের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যে কেউ আইন ভঙ্গ করবে, তাকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই পদক্ষেপটি দেশটিতে নাগরিক সমাজের ওপর ‘ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের’ প্রমাণ। সংস্থাটির সাহেল অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওসমানি ডিয়ালো বলেন, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ওপর এই স্পষ্ট আক্রমণে আমরা উদ্বিগ্ন ও গভীরভাবে চিন্তিত। এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া বুরকিনা ফাসোর সংবিধানের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নাগরিক সমাজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে দমনমূলক আইন, ভয়ভীতি, হয়রানি, ইচ্ছামতো আটক এবং মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। তিনি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইব্রাহিম ট্রাওরের সরকার বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গত নভেম্বরে সব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওকে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে নতুন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে স্থানান্তর করতে বলা হয়। এছাড়া জানুয়ারিতে তিন বছর স্থগিত থাকার পর সব রাজনৈতিক দল ভেঙে দেওয়া হয়।

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই এসব গোষ্ঠীর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি বা সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়ে থাকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow