শাকসু নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও বিক্ষোভে রাতভর আন্দোলন চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ও শাকসু নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষার্থী ও নির্বাচন কমিশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ স্পষ্ট করে সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল চালিয়ে যান। এ সময় ছাত্রদল ভিসি ভবন ও গোলচত্বরে এবং ছাত্রশিবির শাকসু নি

শাকসু নির্বাচন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন না করার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের স্লোগান ও বিক্ষোভে রাতভর আন্দোলন চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ও শাকসু নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষার্থী ও নির্বাচন কমিশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচন বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ স্পষ্ট করে সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল চালিয়ে যান।

এ সময় ছাত্রদল ভিসি ভবন ও গোলচত্বরে এবং ছাত্রশিবির শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভ মিছিলে বিজয় ২৪ হলের ভিপি প্রার্থী হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্যরাতে শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা শিক্ষার্থীদের সামনে হাজির হন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হন তারা। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে অবহিত করা হয়।

উপউপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এবং পরে প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। আলোচনায় অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং প্রজ্ঞাপনটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জারি করেছে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফিরলে এ বিষয়ে আপিল করা হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে শিক্ষার্থীরা এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে এক দফা দাবিতে অনড় থাকেন। তারা স্পষ্ট করে জানতে চান ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে হ্যাঁ বা না সিদ্ধান্ত।

একপর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপউপাচার্যের উদ্দেশে বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনা তিনি পেয়েছেন। তিনি যেন এখনই উপাচার্যকে ফোন করে আগামীকাল সকাল ১০টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান। শিক্ষার্থীরাও এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম উপাচার্যকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের দাবির কথা জানান। জবাবে উপাচার্য জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠক রয়েছে। বৈঠক শেষে দুপুর ২টার পর তিনি নির্বাচন কমিশনে যেতে পারবেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন হবে কি না। সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow