শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্ত শেষ, শেখ হাসিনাসহ সাংবাদিকরা আসামি

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। খসড়া রিপোর্টটি যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ২১ জুলাইয়ের পর এ হত্যা মামলার রিপোর্ট দাখিল হলে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবো। বুধবার( ৮ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কয়েকটি বাহিনীর প্রধানসহ কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা মামলায় আসামি হচ্ছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘসময় ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন শুধু আইনি ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা। আরও পড়ুন শাপলা চত্বরে গণহত্যায় হাসিনাসহ ২১ জনের নামে প্রতিবেদনের নির্দেশ এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি,

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্ত শেষ, শেখ হাসিনাসহ সাংবাদিকরা আসামি

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। খসড়া রিপোর্টটি যাচাই-বাছাই চলছে। আগামী ২১ জুলাইয়ের পর এ হত্যা মামলার রিপোর্ট দাখিল হলে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করবো।

বুধবার( ৮ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কয়েকটি বাহিনীর প্রধানসহ কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা মামলায় আসামি হচ্ছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘসময় ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এখন শুধু আইনি ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা।

এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে এরই মধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানান, শাপলা চত্বরে হত্যার ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুরও প্রাথমিক সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

সিকিউশন সূত্রমতে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার ৩২, নারায়ণগঞ্জের ২০, চট্টগ্রামের ৫ ও কুমিল্লার একজন রয়েছেন। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হবে। মামলাটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, শাপলা চত্বরে নারকীয় হত্যার ঘটনাকে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। তারা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়ালের চেষ্টা করেন। মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ারও প্রচেষ্টা ছিল তাদের। ২০১৩ সালের ৫ মে সেই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ‘সমীকরণ’ নামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনে। ওই প্রতিবেদনে এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যে, শাপলা চত্বরে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ মামলায় ৯ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা।

শাপলা চত্বরের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়।

এফএইচ/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow