শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু হবে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নানা জটিলতায় আটকে ছিল। খুব শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু হবে। একইসঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে সিলেট বিভাগের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা খাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার। দেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে। তিনি আরও বলেন, সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়। তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে না, পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মতো ওঠানামা করে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ জায়গা দিলে উনার নামে স্কুল করে দেব। বিল্ডিং

শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু হবে : শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন নানা জটিলতায় আটকে ছিল। খুব শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চালু হবে। একইসঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে সিলেট বিভাগের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা খাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের চিন্তা করছে সরকার। দেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে। তিনি আরও বলেন, সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়। তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে না, পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মতো ওঠানামা করে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ জায়গা দিলে উনার নামে স্কুল করে দেব। বিল্ডিং আমরা করব। এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো ধারাই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। এ লক্ষ্যে শিগগিরই একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  তিনি বলেন, দেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকা স্বাভাবিক। তবে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে পরিচালিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হলেও মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি কেবল বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে তা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য সৃষ্টি করবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষা পাক সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ফেসবুকে সমালোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়ে আমাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে ফেসবুকে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হলো। আজকাল আমার কিছু পেলেই হলো ফেসবুকে। সেই নির্বাচনের আগে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমি আমার এলাকায় গিয়ে বাচ্চাদের বলেছি, তোমাদের জায়মাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। কারণ পুতুলকে যদি প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়! তাই আমি আমার এলাকায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে এই কথা বলছি। তাও নির্বাচনের আগে। এখন এটা নিয়ে আমাকে ট্রল করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামীদিনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এই স্বপ্ন তো আমরা দেখতেই পারি। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহ কবুল করলে সেও (জায়মা রহমান) প্রধানমন্ত্রী হবে, আমি হয়তো বেঁচে থাকলে দেখে যেতে পারব। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর না নিয়ে আমার নামে পোস্ট করেন ‘মন্ত্রী ব্যর্থ’। এখন শিক্ষকরা মন্ত্রীদের খাতা দেখা শুরু করে দিয়েছে। কোচিং সেন্টারকে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা ফেইলিওর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। শিক্ষকরা ভালো করে পড়ান না বলেই নকল করে। তিনি বলেন, আগের দিনে জেলার স্কুলগুলো ছিল নাম্বার ওয়ান। কারণ ডিসি-এসপিদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করত। মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একই অঞ্চলের ভেতরেই সুযোগের অসম বণ্টন দেখা যাচ্ছে। সভায় সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না— শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদর ও উপজেলার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সিলেটের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow