শিমুলের রঙে বর্ণিল ঠাকুরগাঁওয়ের প্রান্তর
শীতের রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি সেজেছে নতুনের আহ্বানে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে স্নিগ্ধতা ও সুবাস। বসন্তের এই রঙিন ছোঁয়ায় প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, আর সেই রূপের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রক্তিম শিমুল ফুল। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ধীরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিমুল গাছের ডালে ডালে ফুটেছে টকটকে লাল ফুল। সেই ফুলে বসেই কোকিলের কুহুতান মুগ্ধ করছে পথচারীদের। বসন্তের হাওয়ায় আমের মুকুল আর শিমুল ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার। যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে কেউ রঙের মাধুরী মিশিয়ে দিয়েছে। ফসলের মাঠে ধান ও ভুট্টার সবুজ সমারোহ, তার মাঝে গাছে গাছে লাল শিমুলের মেলা— সব মিলিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতিতে যেন বসন্তের জয়গান। ধীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির চৌধুরী জানান, আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে শিমুল ফুল এক অনন্য মাত্রা দেয়। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, কালের বিবর্তনে শিমুল গাছ এখন আগের মতো সচরাচর চোখে পড়ে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিপন বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেও হরিপুরের রাস্তাঘাট ও গ্রামে প্রচুর শিমুল
শীতের রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি সেজেছে নতুনের আহ্বানে। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে স্নিগ্ধতা ও সুবাস। বসন্তের এই রঙিন ছোঁয়ায় প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, আর সেই রূপের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রক্তিম শিমুল ফুল।
শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ধীরগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিমুল গাছের ডালে ডালে ফুটেছে টকটকে লাল ফুল। সেই ফুলে বসেই কোকিলের কুহুতান মুগ্ধ করছে পথচারীদের। বসন্তের হাওয়ায় আমের মুকুল আর শিমুল ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার। যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে কেউ রঙের মাধুরী মিশিয়ে দিয়েছে।
ফসলের মাঠে ধান ও ভুট্টার সবুজ সমারোহ, তার মাঝে গাছে গাছে লাল শিমুলের মেলা— সব মিলিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতিতে যেন বসন্তের জয়গান।
ধীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির চৌধুরী জানান, আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে শিমুল ফুল এক অনন্য মাত্রা দেয়। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, কালের বিবর্তনে শিমুল গাছ এখন আগের মতো সচরাচর চোখে পড়ে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিপন বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেও হরিপুরের রাস্তাঘাট ও গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। বর্তমানে অযত্ন আর নির্বিচারে নিধনের কারণে এই গাছ কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও তুলা আহরণের অন্যতম উৎস হিসেবে শিমুল গাছ টিকিয়ে রাখা জরুরি।
শিমুল গাছের ভেষজগুণ ও উপযোগিতা সম্পর্কে জানা যায়, শীতের শেষে পাতা ঝরিয়ে বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল আসে। এরপর ফল হয় এবং বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে ফেটে গিয়ে প্রাকৃতিকভাবে তুলা ও বীজ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠন ‘অক্সিজেন’-এর সভাপতি মোজাহেদুর ইসলাম ইমন বলেন, শিমুল গাছ সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে, এর বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মানুষ জ্বালানি হিসেবে, প্যাকিং বাক্স কিংবা দিয়াশলাই কাঠির জন্য নির্বিচারে এই গাছ কেটে ফেলছে। পর্যাপ্ত গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে প্রকৃতি থেকে এই সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে।
গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শিমুল গাছের গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের দাবি জানিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
What's Your Reaction?