শিশুর গলায় গরুর রশি বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু মো. তামিম বিশ্বাস।  বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া কুচিয়াগ্রামের যৌথ মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুর গলা ও কোমরে গরুর রশি বেঁধে গোরুকে তাড়া দেন। এতে গরুর টানে শিশুটি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। আহত তামিম বিশ্বাস মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র। তার বাবা মশিউর রহমান মারা গেছেন। পিতা-মাতাহীন তামিম এতিমখানায় থেকে লেখাপড়া করছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোতাহের মৃধার ছেলে কাউছার মৃধা (৫০) গোরু মাদ্রাসার ভেতরে বেঁধে রেখেছিলেন। গোরুটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের গাছের চারা খেয়ে ফেলছিল। এ সময় তামিম গরুর খুঁটি তুলে অন্য জায়গায় বেঁধে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউছার মৃধা শিশুটির গলায় ও কোমরে রশি পেঁচিয়ে গরুটিকে তাড়া দেন। তামিম জানায়, গোরু দৌড় দিলে সেও রশির টানে ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের একটি কচা গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে তার গলায় রশির গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং মুখমণ্ডল ও শরীরে

শিশুর গলায় গরুর রশি বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১০ বছর বয়সী শিশু মো. তামিম বিশ্বাস। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নওয়াপাড়া কুচিয়াগ্রামের যৌথ মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক ব্যক্তি শিশুর গলা ও কোমরে গরুর রশি বেঁধে গোরুকে তাড়া দেন। এতে গরুর টানে শিশুটি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়।

আহত তামিম বিশ্বাস মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র। তার বাবা মশিউর রহমান মারা গেছেন। পিতা-মাতাহীন তামিম এতিমখানায় থেকে লেখাপড়া করছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোতাহের মৃধার ছেলে কাউছার মৃধা (৫০) গোরু মাদ্রাসার ভেতরে বেঁধে রেখেছিলেন। গোরুটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণের গাছের চারা খেয়ে ফেলছিল। এ সময় তামিম গরুর খুঁটি তুলে অন্য জায়গায় বেঁধে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউছার মৃধা শিশুটির গলায় ও কোমরে রশি পেঁচিয়ে গরুটিকে তাড়া দেন।

তামিম জানায়, গোরু দৌড় দিলে সেও রশির টানে ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের একটি কচা গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে তার গলায় রশির গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

ঘটনার পর শুক্রবার (১২ জুন) সকালে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কাউছার মৃধাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ শালিশকে একতরফা ও অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন স্থানীয় অনেকেই। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে তামিম চিকিৎসাধীন রয়েছে। এটি অত্যন্ত নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা। তারা বলেন, গরুর সঙ্গে বেঁধে একটি শিশুকে তাড়া দেওয়ার ঘটনায় তার প্রাণহানিও ঘটতে পারত। শিশুটির বেঁচে যাওয়া অলৌকিক ছাড়া কিছু নয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউছার মৃধার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ ফকির তাইজুর রহমান বলেন, এখনও এজাহার পাইনি, আমি দারোগা পাঠিয়েছি। হুজুরকে বলে এসেছে, বিকেলে বাচ্চা ও গার্ডিয়ান নিয়ে থানায় আসতে, সন্ধ্যার মধ্যে ফলাফল হবে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow