শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে দয়ার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু। রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। মামলাটি পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তি অপরিহার্য। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণেও ভুক্তভোগী শিশুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো শিশুদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আদালত তার নিজস্ব এখতিয়ার প্রয়োগ করে আসামিদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। মামলাটির দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সরকা

শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে দয়ার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দয়া-দাক্ষিণ্য দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় রোববার (৭ জুন) রায় ঘোষণার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। মামলাটি পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণেও ভুক্তভোগী শিশুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য হলো শিশুদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আদালত তার নিজস্ব এখতিয়ার প্রয়োগ করে আসামিদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

মামলাটির দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, সরকারের বিশেষ উদ্যোগের কারণেই সাক্ষীদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে রেকর্ড করা সম্ভব হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা গেছে।

তবে তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে যাবে এবং পরবর্তী আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন হবে।

মামলার পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিচার বিভাগের। প্রধান বিচারপতি তার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

রায় ঘোষণা ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, রায়কে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত ৬০ জন সদস্যের পাশাপাশি আদালত এলাকায় আগে থেকেই নিয়োজিত প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে শতাধিক সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই মোতায়েন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আসামিদের ট্রাইব্যুনালের এজলাসে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। এসময় আদালত চত্বরে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সোহেল রানাকে এবং ১০টা ৫৫ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে এজলাসে তোলা হয়। স্বপ্নাকে আনার সময় সোহেল প্রথমে মুখ লুকিয়ে রাখলেও পরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে দুই আসামিকে কাঠগড়ায় রাখা হয়।

বেলা ১১টায় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায়ে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শুনানি, সাক্ষ্য, আলামত, ডিএনএ প্রতিবেদন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং আসামিদের জবানবন্দির বিষয় তুলে ধরা হয়। আদালত বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত অপরাধ সংঘটনের বর্ণনা, ধর্ষণের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ড এবং অপরাধে সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য ও মামলার উপস্থাপিত আলামতের আলোকে কেন আসামিদের দায়ী করা হচ্ছে, সে ব্যাখ্যাও তুলে ধরা হয়।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা না রাখায় সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারের দায়ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানাকে কাঠগড়ার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার একটি টুলে বসেছিলেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে বিচারক রায় ঘোষণা করে এজলাস ত্যাগ করেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। সকালে রায় ঘোষণার আগে তিনি এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আদালতকক্ষ থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিচারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

গত ১৯ মে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

ঘটনার দিনই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

এমডিএএ/একিউএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow