শিশু হৃদয় হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
শরীয়তপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান ওরফে নিবিড়কে (১১) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজন কিশোর আসামিকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও পাবনার সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপরদিকে, খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই হৃদয় খান নিখোঁজ হয়। সে সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে এবং শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় ওই রাতেই তার মা নিপা আক্তার পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন রাতেই দুর্বৃত্তরা নিপা আক্তারের মোবাইলে কল করে হৃদয়কে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শা
শরীয়তপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশু শিক্ষার্থী হৃদয় খান ওরফে নিবিড়কে (১১) হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজন কিশোর আসামিকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী (১৯) ও পাবনার সিংগা এলাকার সিয়াম হোসেন (২০)। অপরদিকে, খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর আসামির বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই হৃদয় খান নিখোঁজ হয়। সে সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার মনির খানের ছেলে এবং শহরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিখোঁজের ঘটনায় ওই রাতেই তার মা নিপা আক্তার পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন রাতেই দুর্বৃত্তরা নিপা আক্তারের মোবাইলে কল করে হৃদয়কে অপহরণের কথা জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাকিল হোসেন গাজী, সিয়াম হোসেন এবং ওই কিশোরকে আটক করে।
আটকদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জেলা শহরের একটি ইটভাটা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে আসামিরা স্বীকার করেন হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং হত্যার পরই মুক্তিপণের জন্য ফোন করা হয়েছিল।
মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আড়াই বছর ধরে সন্তানের জন্য হাহাকার করছি। একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। একজনকে শিশু দাবি করে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেই ছিল মূল পরিকল্পনাকারী। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে কোনোভাবে খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।’
এদিকে রায় ঘোষণার পর আসামিদের আদালত কাস্টডিতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ দ্রুত আসামিদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামরুল হাসান বলেন, মামলায় একজনের বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুইজনের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদ কোতোয়াল বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।