শীতে চোখের সমস্যায় কখন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন?

শীত এলেই অনেকেই চোখের নানা অস্বস্তিতে ভোগেন। চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা পানি পড়া এই সমস্যাগুলো যেন শীতের নিত্যসঙ্গী। অনেকে এসব উপসর্গকে সাময়িক ভেবে ঘরোয়া উপায়ে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ অবহেলা করলে চোখের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা জানান, শীতকালে চোখের সমস্যাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। শীতকালে চোখে সমস্যা বাড়ে কেন? শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয় এবং চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ধুলাবালি, ঠান্ডা বাতাস, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখে জ্বালা ও ক্লান্তি বেড়ে যায়। শীতের সময় অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে। ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, ‘অনেকে শীতকালে চোখের সমস্যা হলে নিজে নিজে আইড্রপ ব্যবহার করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।’ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে,

শীতে চোখের সমস্যায় কখন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন?

শীত এলেই অনেকেই চোখের নানা অস্বস্তিতে ভোগেন। চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা পানি পড়া এই সমস্যাগুলো যেন শীতের নিত্যসঙ্গী। অনেকে এসব উপসর্গকে সাময়িক ভেবে ঘরোয়া উপায়ে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ অবহেলা করলে চোখের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা জানান, শীতকালে চোখের সমস্যাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

শীতকালে চোখে সমস্যা বাড়ে কেন?

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয় এবং চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ধুলাবালি, ঠান্ডা বাতাস, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণেও চোখে জ্বালা ও ক্লান্তি বেড়ে যায়। শীতের সময় অ্যালার্জি ও সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি থাকে।

ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, ‘অনেকে শীতকালে চোখের সমস্যা হলে নিজে নিজে আইড্রপ ব্যবহার করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।’

চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি-

চোখে তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া: হালকা অস্বস্তি সাধারণ হলেও যদি ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে তা কর্নিয়া সংক্রমণ বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও সঙ্গে ব্যথা: শীতের সময় অনেকের চোখ লাল হয়। তবে লালচে ভাবের সঙ্গে যদি ব্যথা, আলোতে তাকাতে কষ্ট বা পানি পড়া শুরু হয়, তাহলে তা কনজাংটিভাইটিস বা ইউভাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।

হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া: চোখে শুষ্কতার কারণে সাময়িক ঝাপসা দেখা স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু যদি দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যায় বা দীর্ঘ সময় ঝাপসা থাকে, তাহলে তা মারাত্মক সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে।

আরও পড়ুন: 

চোখ থেকে হলুদ বা সবুজ রঙের স্রাব: চোখে সংক্রমণ হলে এ ধরনের স্রাব দেখা যায়। শীতকালে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা: স্বাভাবিক আলোতেও যদি চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়, তাহলে তা চোখের ভেতরের প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে।

চোখে আঘাত লাগার পর সমস্যা দেখা দিলে: শীতকালে বাতাসে উড়ে আসা ধুলা, বালি বা কোনো বস্তু চোখে ঢুকে গেলে এবং এরপর ব্যথা বা লালচে ভাব দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

শিশু বা বয়স্কদের চোখে সমস্যা: শিশু ও বয়স্কদের চোখ তুলনামূলক সংবেদনশীল। তাদের চোখে পানি পড়া, লাল হয়ে যাওয়া বা চোখ ঘন ঘন ঘষার প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শীতকালে চোখ সুস্থ রাখতে ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা যে কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন-

  • ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস থেকে চোখ বাঁচাতে বাইরে গেলে চশমা ব্যবহার করুন
  • দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখার পর চোখকে বিশ্রাম দিন
  • চোখে অযথা হাত দেবেন না
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো আইড্রপ ব্যবহার করবেন না
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান

অবহেলা নয়, সচেতনতা জরুরি

চোখ শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সামান্য অসচেতনতা বা অবহেলা চোখের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শীতকালে চোখে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসায় ভরসা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা বলেন, ‘সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ চোখের সমস্যাই সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দেরি করলে জটিলতা বাড়ে।’

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow